সাতক্ষীরায় দণ্ডিত ৪ আসামি করবেন সেবামূলক কাজ!

17

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সম্প্রতি হাইকোর্ট মাদক মামলায় দণ্ডিত আসামিকে বিশেষ শর্তে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে প্রবেশনে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল। এবার সাতক্ষীরায় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে মারামারির ঘটনায় একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে আসামিদের সংশোধনের সুযোগ দিয়ে প্রবেশন আইনের প্রয়োগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সাতক্ষীরা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ইয়াসমিন নাহার এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মহিষাডাঙা গ্রামের লক্ষীকান্ত গাইনের স্ত্রী মমতা গাইন, ছেলে গৌতম গাইন, বিমল গাইনের স্ত্রী উর্মিলা গাইন ও টিকেন্দ্র মন্ডলের স্ত্রী লতিকা মন্ডল।

শর্তের মধ্যে রয়েছে মাদকবিরোধী প্রচার, আসামিরা বাদীকে ১০টি বনজ ও ১০টি ফলজসহ মোট ২০টি গাছ দেবেন, বাল্যবিবাহ রোধে প্রচারণা, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা এবং কারও সাথে কোন ঝগড়া না করা।

তিন মাস পর এ শর্ত যথাযথভাবে পালিত হয়েছে কিনা সে সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রবেশন অফিসারকে জমা দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত আরও জানিয়েছেন, এই শর্তে কোন বিঘ্ন ঘটালে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হবে।

গাছ প্রদান করা হয়েছে কিনা তা আশাশুনি উপজেলার ৩ নং কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিশ্চিত করবেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার মহিষাডাঙা গ্রামের সন্দীপ মন্ডলের মেয়ে বণ্যা মন্ডলকে বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় গালিগালাজ ও অশালীন আচরন করতো একই গ্রামের উর্মিলা গাইন। ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে এ ঘটনাকে ঘিরে প্রতিবাদ করায়, গৌতম গাইন, তার মা মমতা গাইন, উর্মিলা গাইন ও লতিকা মন্ডল পরিকল্পিতভাপবে সন্দীপ মন্ডলের মেয়ে বণ্যা মন্ডল ও স্ত্রী নমিতা মন্ডলকে গালিগালাজ, অশালীন আচরণ ও মারপিট করে। এ ঘটনায় নমিতা মন্ডল বাদি হয়ে ওই চারজনের নাম উল্লেখ করে ওই বছরের ১৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা (সিআরপি-১২/১৬ আশাশুনি) দায়ের করেন। বিচারক মোঃ আকরাম হোসেন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক রশিদুজ্জামান ওই বছরের ৮ এপ্রিল মামলায় বর্ণিত চার আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন(সিআর-৬৮/১৬ আশাশুনি)। ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল ওই চার আসামীর বিরুদ্ধে ৩৪১, ৩২৩, ৩৫৪ ও ৫০৬ ধারায় আদালত অভিযোগ গঠণ করা হয়(টিআর-৩১৯/১৬ আশা)। পাঁচজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম ইয়াসমিন নাহার ৩২৩ ও ৩৫৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আসামী গৌতম গাইনকে পৃথক দুই ধারায় তিন মাস করে ছয় মাস কারাদন্ড দেন। একইভাবে মমতা গাইন , উর্মিলা গাইন ও লতিকা মন্ডলকে ৩২৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদন্ড দেন।

বাদিপক্ষে পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন অ্যাড. শংকর কুমার মজুমদার। আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাড.একেএম রেজোয়ান উদ দৌলা সবুজ।

আদালতের এ আদেশ সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতের পেশকার মোঃ বনি শাহাদাৎ।