দুর্নীতির অভিযোগে বদলী হওয়া সত্বেও স্বপদে বহাল আজহারুল

12

ডেস্ক রিপোর্ট: পাহাড় সমেত দুর্নীতির অভিযোগে কুমিল্লায় বদলী হওয়া সত্বেও শ্রমমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের ভাই সাহাবুদ্দিনের নাম ভাঙ্গিয়ে এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন রাজশাহী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম। অব্যাহত অপকর্মের কারণে তাকে সতর্ক করায় উল্টো উপমহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়াকেই বিপাকে ফেলানোর চেষ্টা করেন দুণীতির ওই বরপুত্র আজহারুল ইসলাম।

এদিকে দুর্নীতির আখড়া জুড়ে বসেও স্বপদে বহার থেকে আজহারুল ইসলাম দম্ভোক্তি করেন আমার খুঁটির জোর সম্পর্কে কারো ধারণা নেই। এই জায়গা থেকে বদলীয় করার ক্ষমতা কারো আছে বলে মনে হয়না,প্রয়োজনে ১০লাখ টাকা জায়গা মতো খরচ করে ফেলবো। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহারুল এবং ড্রাইভার সফিক আমার শ্যালক সবখানেই আমার জ্যাক ফিট করা আছে। আমার বিরুদ্ধে লেগে কোন লাভ নেই। যে লাগবে তার অস্তিত্ব ঠিক থাকবেনা। আজহারুল ইসলামের দম্ভোক্তির কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছেনা।

দেশের বেশ কয়েকটি প্রথম সাড়ির দৈনিক পত্রিকায় ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে অসংখ্যবার তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও অদৃশ্য শক্তির কারণে ওই পদ থেকে অদ্যাবধি তাকে কেউ সরাতে পারেননি। অনৈতিক কর্মকান্ডের দোর্দন্ড প্রতাপে বর্তমানে আজহারুল ইসলাম গোটা রাজশাহী কলকারখানাগুলোতে যেন রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছে। আর এই সুবাদে এখনো সে লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করা এবং কর্ম এলাকার বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করেই চলেছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত মাসখানেক পূর্বে পরিদর্শক তাঁকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করে। এই কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ম এলাকা পুনর্বণ্টনের পরও আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে কখনো লাইসেন্স দেওয়ার নাম করে, কখনো নবায়ন করে দেওয়ার নাম করে লাইসেন্সসহ কাগজপত্র এবং অনৈতিক অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক সরাসরি কার্যালয়ে এসে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করবেন। এই পরিদর্শক গত ৪ এপ্রিল তাঁর কর্ম এলাকার বাইরে ভোলাহাটে একটি কারখানার লাইসেন্স নবায়ন করে দেওয়ার জন্য নিয়ে আসেন। রাজশাহী কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া নওগাঁয় একটি উদ্বুদ্ধকরণ সভার জন্য গিয়ে জানতে পারেন, পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম অর্ধশতাধিক লাইসেন্স নবায়নের জন্য নিয়ে এসে ফেরত দেননি। চালকলমালিকেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

এ ছাড়া উপমহাপরিদর্শক গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় উত্তরা কোল্ডস্টোরেজে পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারেন, হিমাগারটির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে ২০১৬ সালে এবং শ্রমিকসংখ্যা লাইসেন্সের ক্যাটাগরি থেকে অনেক বেশি, এটা জেনেও তিনি (আজহারুল ইসলাম) লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন এবং মালিকানা ও ক্যাটাগরি পরিবর্তন না করেই নবায়ন করিয়েছেন। এ ছাড়া দুই মাস আগে চার–পাঁচজন লোকসহ ওই হিমাগার পরিদর্শনের নাম করে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নিয়ে এসেছেন। কিন্তু কার্যালয়ে তা জমা দেননি।

২১ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড প্ল্যাস্টিক ফ্যাক্টরির মালিক উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করেছেন, পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম তাঁদের চারটি লাইসেন্স নবায়নের জন্য সংগ্রহ করে এনেছেন এবং অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। লাইসেন্সগুলো নিজের কাছেই রেখে দিয়েছেন। এর আগে ২৬ আগস্ট মহাদেবপুর চালকল মালিক সমিতির দুই কর্মকর্তা একই অভিযোগ করেছেন।

১৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর নওদাপাড়ার আকিজ ফুড বেভারেজ, তৃপ্তি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট মালিক,১১ অক্টোবর রাজশাহীর বেতিয়াপাড়ার জোহা এন্টারপ্রাইজের মালিক, ১৫ অক্টোবর মান্দা উপজেলার মেসার্স সীমানা ব্রিকস,বেবী শপ লিমিটেডের মালিক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। আমি গ্রামের বাড়িতে রয়েছি। কারণ দর্শানোর নোটিশ হাতে পাইনি। কেন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা–ও জানি না। আমি শুধু উপমহাপরিদর্শককে কর্ম এলাকা পুনর্বণ্টনের জন্য বলেছিলেন। সেটা করা হয়নি।’

অপরদিকে ওই কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, পরিদর্শক আজহারুলের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে। এই ধরনের কর্মকান্ডের জন্য এর আগেও তাঁকে একবার বদলি করা হয়েছিল। পরে তিনি আবার রাজশাহীতে এসেছেন। এখন তাঁর দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে গেছে। তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

‘তাঁকে সতর্ক করতে গেলেই উল্টো আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপপ্রচার করেন। তার এতো ক্ষমতা এখন আজহার আমাকেই বদলির চেষ্টা করছেন। বদলি করতে পারলে নতুন উপমহাপরিদর্শককেও বদলির ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে থাকা লাইসেন্সগুলো নবায়ন করে সে তার হীণস্বার্থ হাসিল করবেন।