দেবভোগ প্রাইমারি স্কুলসংস্কারে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

25

নড়াইলকণ্ঠ ॥ নড়াইল সদর উপজেলার দেবভোগ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক অনুকুল বিশ্বাস ওই বিদ্যালয় সংস্কারের দেড় লাখ টাকা লোপাট করেছে বলে স্থানীয়দের অভিয়োগ।

জানা গেছে, নড়াইল সদর দেবভোগ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুকুল বিশ্বাস স্থানীয় দেবভোগ গ্রামের বাসিন্দা। এ কারণে তিনি অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মতামতের কোন মূল্যায়ণ করেন না।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ওই বিদ্যালয়ে সংস্কার কাজে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং প্রকল্পের কাজটি করেন প্রধান শিক্ষক নিজেই।

স্থানীয়রা জানান, ছাদে চিপ ঢালাই, সামান্য কিছু জায়গা পলেস্তরা ও রং করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খুব বেশি হলে ৫০ হাজার টাকার মত ওই প্রকল্পে ব্যায় করা হয়েছে। বাকি দেড় লাখ টাকা লোপাট বা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে নড়াইল সদর উপজেলার এগারোখান এলাকায় সংস্কার কাজ হওয়া বিদ্যালয় থেকে টাকা উত্তোলন করে ঘুষ হিসেবে শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট পৌঁছে দেয়ার সমন্বয়কের কাজ করছেন প্রধান শিক্ষক অনুকুল বিশ্বাস নিজেই।

ঘুষের টাকা উত্তোলন সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনের কথা অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক অনুকুল বিশ্বাস বলেন, ‘বর্ষার সময় কাজ করাতে গিয়ে যথাযথভাবে করতে পারিনি। তাই কাজে কিছুটা অনিয়ম হতে পারে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে বলেছে সেভাবেই কাজ করা হয়েছে।’

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমানের নিকট এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি ঘুষ গ্রহনের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয় সংস্কার কাজ করার বিষয়টি উপজেলা এলজিহিড অফিস দেখে। অনিয়ম হলে তারা বলতে পারবেন।

নড়াইর সদর উপজেলা প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, কাজ করার আগে আমার দফতর থেকে শুধু এস্টিমেট করে দেয়া হয়। তাছাড়া এ অফিসের আর কোন কাজ নেই। বাকি যা কিছু নড়াইল সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস করে থাকে।

জেলা শিক্ষা অফিসার হুমায়ূন কবির বলেন, দেবভোগ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠানের মেরামত প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের নিকট এলাকার সচেতন মহল দাবী করে বলেছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রকৃত দোষিদের চিহ্নিত করে স্কুলসংস্কারের কাজটি যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।