ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

23

ডেস্ক রিপোর্ট : চলতি বছরের শুরুতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ফুটপাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনা‌লের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তিও দেয়া হয় অভিযুক্তকে। অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

তিনি জানান, আসামীর বিরুদ্ধে যে আইন অনুসারে চার্জ গঠন করা হয়েছে, সেই ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

আসামী মজনুর পক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম রবির – যাকে আসামীকে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল – মতে আসামী ন্যায়বিচার পাননি এবং চাইলে উচ্চ আদালতে অ্যাপিল করতে পারবেন।

এজলাসে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামী মজনু চিৎকার চেঁচামেচি ও উগ্র ব্যবহার করেন বলে জানান বাদী পক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ।

তিনি বলেন, “এজলাসে নিয়ে আসার সময় অনেক মানুষ, সাংবাদিক, ক্যামেরা দেখে মজনু কিছুটা অপ্রকৃতস্থ ও উগ্র আচরণ করা শুরু করে। পরে এজলাসেও একই আচরণ চালিয়ে যায় সে।”

পরে মজনুকে শান্ত করার জন্য এজলাস কক্ষ থেকে অধিকাংশ মানুষকে বের করে দিয়ে রায় পড়ে শোনান আদালত।

মজনুর পক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান মজনু বিচার চলাকালীন সময়েও আদালতে উগ্র আচরণ করেছিল।

তিনি বলেন, “আমার চেষ্টা ছিল আসামীকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করা। কিন্তু মজনু আদালতে বিচার চলাকালে, স্বাক্ষী জেরা করতে গিয়ে এমন কিছু আচরণ করেছে, যা তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দিকে আরো বেশি করে ঠেলে দিয়েছে।”