ডেঙ্গু আক্রান্ত নড়াইল পৌর মেয়র স্কোয়ারে ভর্তি

64

নড়াইলকণ্ঠ ॥ ডেঙ্গু আক্রান্ত নড়াইল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে তাকে হেলিক্যাপ্টারযোগে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় নিয়ে তাকে স্কোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত সোমবার জ্বর হলে নানা উপস্বর্গ দেখা দিলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবন্নোতি হলে সদর হাসপাতালের পরামর্শে মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি মেঘনা এ্যাভিয়েশন বেসরকারি হেলিক্যাপ্টার করে ঢাকায় স্কোয়ার হাসপাতালে নিয়ে বিকালে স্কোরয়ার হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

এ সময় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফীর বিন মোর্ত্তজার পিতা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন, পৌর পরিষদের কাউন্সিলর, কর্মচারীবৃন্দ, আত্মীয় স্বজন সহ অসংখক মানুষ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের অসুস্থতা ও ডেঙ্গু আক্রান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত করে নড়াইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মশিউর রহামন বাবু নড়াইলকণ্ঠকে জানান, গত সোমবার জ্বরে আক্রান্ত হলে মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাসকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। রক্তের প্লাটিলেট ৪৪ হাজারে নেমে আসে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় স্কোয়ার হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ৩০ ডিসেম্বর নড়াইল পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে নড়াইল পৌরসভায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে ১১ হাজার ৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি বিএনপি’র ধানের শীষে জুলফিক্কার আলী ৬ হাজার ৩৭১ ভোট পান। আ’লীগের বিদ্রোহী গ্রুপের স্বতন্ত্রপার্থী তৎকালিন সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস নারকেল গাছ প্রতিকে ১ হাজার ৩৭৭ এবং জেলা বাস ও মিনিবাস পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি যুব লীগ নেতা সরদার আলমগীর হোসেন আলম জগ প্রতিকে ২ হাজার ৬৩৪ ভোট পান।
এ সময় জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের বিজয়ের সংবাদ পেয়ে ভোটকারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোটের দিন বিকাল ৩টার দিকে সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, সরদার আলমগীর হোসেন আলম, জাসদের সৈয়দ আরিফুল ইসলাম পান্থ নির্বাচন বর্জন করেন।

২০১৫ সালে নড়াইল পৌরসভায় মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ১৪টি। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৪৫০ জন। ঐ নির্বাচনে বৈধ ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৪১৯ এবং ৭২.৭৩% ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।