নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মসজিদের নাম পরিবর্তণ নিয়ে উত্তেজনা

37

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ ও বন্দর রেললাইন বাবরী মসজিদের নির্বাচন থেকে শুরু করে সেই কুঁড়িপাড়া বাজার জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বমুখর পরিস্থিতির রেশ না কাটতেই এবার বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্য হাজীপুরে মসজিদের নাম পরিবর্তণ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক।

মসজিদের নাম পরিবর্তণ এবং অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সভাপতি পদ দখল করা নিয়ে মসজিদের দাতা সদস্যদের সঙ্গে মুসল্লীদের উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছে।

স্থানীয় মুসল্লীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,পূর্ব হাজীপুর এলাকার জনৈক সমাজ সেবক আলম চাঁন মিয়া মুসল্লীদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে বিগত ২০০৮ সালে ২ শতাংশ জমি (ওয়াকফা হিসেবে) দান করেন। সেই প্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গড়ে ওঠে ‘মধ্য হাজীপুর বাইতুল জামে মসজিদ’’। জমিদাতা নিজেই এ নামটি ঘোষণা দেন। দাতা হিসেবে জীবদ্দশায় আলম চাঁন মসজিদের মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব পালণ করেন। কিন্তু আলম চাঁনের মৃত্যুর পর পর¦ই তার পুত্র আবুল বাশার এলাকার কতিপয় দুষ্ট চক্রের ইন্ধনে গোপনে মরহুম আলম চাঁন এর দেয়া নামটি ২০১৫ সালে কৌশলে পরিবর্তণ করে ফেলে। বিষয়টি ইদানীং এলাকাবাসীর মাঝে জানাজানি হলে মুসল্লীরা নাম পরিবর্তণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। এমনকি দাতা সদস্যদের চক্রান্তের কারণে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন একরকম বাধ্য হয়েই সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। শুধু তাই নয় সভাপতি পদত্যাগের ঘটনা ছাড়াও এর আগে দাতা সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে দুই দুইবার মসজিদ কমিটি ভেঙ্গে দেয়। বর্তমানে দাতা সদস্য আবুল বাশার কর্তৃত্ব জাহির করতে নিজের পছন্দের ব্যাক্তি নুরুল ইসলামকে সভাপতি পদে আসীন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অসৎ ওই পরিকল্পনা সফল করতে মসজিদ কমিটি বহাল থাকা স্বত্ত্বেও তারা অনেককেই ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে গোপনে রাতের আধারে তাদের কাছ থেকে সাক্ষর গ্রহণ করেছে। যা সম্পূর্ণ মসজিদ কমিটির আইন পরিপন্থি।

অন্যদিকে মসজিদের মুসল্লীরা ইমামের বেতন পরিশোধের পরও ওই পদে আসীন হতে নুরুল ইসলাম মোল্লা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে মসজিদের ইমামকে ১মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে নিজেকে দয়াবান এবং যোগ্য সভাপতি দাবীদাররূপে আবির্ভূত হতে চাইছেন। দাতা সদস্য আবুল বাশারের সমর্থণ পেয়ে নুরুল ইসলাম মোল্লা কমিটির সদস্যদের কোন প্রকার অবহিত না করে কিংবা কোন রেজুলেশন ছাড়াই বেআইনীভাবে মসজিদের নাম‘মধ্য হাজীপুর বাইতুল জামে মসজিদের স্থলে নাম ‘মধ্য হাজীপুর বাইতুল আলম জামে মসজিদ’’ ব্যবহারের ঘোষণা দেন।

এ ঘোষণার পর থেকেই দাতা সদস্য গংয়ের সঙ্গে মুসল্লীদের বিরোধ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বর্তমানে এই মসজিদের নাম পরিবর্তণ ও কমিটি নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছে এলাকাবাসী। উদ্ভট এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে এলাকার মুসল্লীরা ইতোমধ্যে বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

থানা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় মুসল্লীদের মাঝে অজানা শংকা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর মতে,মসজিদের নাম কখনো কোন ব্যাক্তির নামে হতে পারেনা। যে দান করেছে তার উত্তরসূরীরা দাতা হতে পারবে কিন্তু কোন মসজিদ ব্যাক্তি নামে করার বিরোধীতা করছি। এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।