স্বাধীনতার মাসে পাকিস্তানকে বধ করে বাংলাদেশ ফাইনালে

119

নড়াইল কণ্ঠ : ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকেই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দল মহান স্বাধীনতার মাসে প্রমাণ করল, ‘চির উন্নত মম শির’। ওডিআই ফরম্যাটের ধারাবাহিকতায় টি-২০ ফরম্যাটেও অক্ষুন্ন রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মাশরাফি বাহিনী চরম নাটকীয় এক জয়ে আনন্দে ভাসাল দেশবাসীকে। নিজের মাঠে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে ২০১২ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানের পরাজয়ে শিরোপা হাতছাড়া হওয়া টাইগাররা এবার টি-২০ ফরম্যাটেও অনেক পরিণত। এশিয়া কাপের লীগ পর্বে নিজেদেNK_March_2016_011র শেষ ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়ে পাকিস্তানকে বিদায় করে ভারতের বিপক্ষে ৬ মার্চ ফাইনালের শেষ পরীক্ষায় নামবে বাংলাদেশ। সত্যিই দুর্দান্ত। বিস্ময়জাগানিয়া। প্রতি মুহূর্তে রোমাঞ্চকর শিহরণ। গ্যালারীতে তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনা। শেষ অবধি ৫ উইকেটের গৌরবময় জয়। বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে মত্ত তখন টাইগার শিবির। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান করেছিল সাত উইকেটে ১২৯ রান। জবাবে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ৫ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌছে যায়। শেষ ওভারে দরকার ছিল তিন রান। মাহমুদুল্লাহ চার হাঁকিয়ে ফাইনালে তোলার উৎসবে মাতান পুরো দলকে। শুরুতে বিদায় তামিমের। পারেননি সাব্বিরও। তবে সৌম্যের ব্যাটে সহজ জয়ই প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তার বিদায়ের পর আবারো শঙ্কা। আশা জাগল সাকিব-রিয়াদের ব্যাটে। আমিরের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেন সাকিব। পেন্ডুলামের মতো দুলছে তখন ম্যাচ। শেষ অবধি মাঠে নেমেই মাশরাফির দুই বলে দুই চার, ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। ১৯তম ওভারেই জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ১২ বলে দরকার ছিল ১৮, সামি দিলেন ১৫। শেষ ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পুরোদেশে গর্জনই তুললেন রিয়াদ। ২০১২ এশিয়া কাপের কথা এখনও ভোলেনি বাংলাদেশ। যেখানে মাত্র দুই রানের ব্যবধানে এই পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই ফাইনালে হেরেছিল বাংলাদেশ। খুNK_March_2016_009ব কাছে গিয়েও হারের যন্ত্রনায় সাকিবের বুকে মাথা রেখে কেঁদেছিলেন মুশফিক, সঙ্গে গোটা দেশই। চার বছর পর সেই মিরপুর স্টেডিয়াম। স্বগৌরবে সেই পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে মাশরাফি বিগ্রেড। পুরোনো ক্ষতে স্বস্তির প্রলেপ কিছুটা দেয়া গেল হয়তো। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তামিম ইকবালকে হারিয়ে হোঁচট খেয়েছিল বাংলাদেশ। ১.৫ ওভারের মাথায় তিনি ইরফানের বলে এলবিডব্লিউর শিকার। সাত বলে চার রান করে সাজঘরে ফেরেন আশা-ভরসার প্রতীক তামিম। এরপর দেখেশুনে আগাতে থাকেন দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বির ও সৌম্য। তবে আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির এদিন ব্যর্থতার খোলসে বন্দী। ১৫ বলে ১৪ রানের স্বভাববিরুদ্ধ ইনিংস খেলে তিনি বিদায় নেন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে। তবে এই জুটিতে রান আসে ৩৩।
এরপর বেশ দাপট দেখিয়ে আগাচ্ছিলেন সৌম্য সরকার। মনে হচ্ছিল টি২০ ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেবেন। কিন্তু তা আর হলো না। ব্যক্তিগত ৪৮ রানের মাথায় মোহাম্মদ আমিরের বলে সরাসরি বোল্ড হন সৌম্য। ৪৭ রানের এই ইনিংসে সৌম্য হাঁকিয়েছেন পাচটি চার ও একটি ছক্কা। এটিই সৌম্যের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। আগেরটি ছিল ৪৩ রানের।
সৌম্যের বিদায়ের পর তার পথেই রওনা দেন রান খরার মধ্যে থাকা বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। ১৫ বলে ১২ রান করে তিনি শোয়েব মালিকের এলবিডব্লিউর শিকার। ১৪.২ ওভারে দলীয় রান তখন ৮৮।  আশা জাগাচ্ছিল সাকিব-রিয়াদ জুটি। কিন্তু আমিরের ইয়র্কার লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে বোল্ড হলেন সাকিব। ১৩ বলে করেন আট রান। তবে মাঠে নেমেই আমিরের দুই বলে পরপর দুই চার হাঁকিয়ে খেলা জমিয়ে তোলেন মাশরাফি। তখন দুই ওভারে জয়ের জন্য দরকার ১৮ রান। ১৯তম ওভারে দুই নো বলের সৌজন্যে আসে ১৫ রান। শেষ ওভারে দরকার ছিল তিন রান। আনোয়ার আলীর প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন ফিনিশার মাহমুদ উল্লাহ। ১৫ বলে ২২ রানে মাহমুদুল্লাহ ও সাত বলে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন মাশরাফি।

গত বছরটা ওয়ানডেতে দুর্দান্ত কেটেছে বাংলাদেশের। তবে সমালোচনা ছিল, টি২০ তে বাংলাদেশ এখনও গোছালো দলে পরিণত হতে পারেনি। এশিয়া কাপে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার পর এবার টি২০তে পাকিস্তান বধ। শিরোপা লড়াইয়ে এখন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। টি২০ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসনীয়। কে জানে, ভারতে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে আরও বড় বিস্ময় উপহার দিতে প্রস্তুত রয়েছে মাশরাফি শিবির।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, আল আমিন, আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ।