মুলিয়ার ঘটনায় নজরুলের সংবাদ সম্মেলন

42

নড়াইলকণ্ঠ ॥ নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত না দিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মানববন্ধন করার প্রতিবাদে নড়াইলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের রূপগঞ্জ উৎসব কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নড়াইল পৌর এলাকার দক্ষিণ নড়াইল গ্রামের নজরুল ইসলাম মোল্যা বলেন, আমার ছেলে রিজভীর সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে বালুর ব্যবসার কথা বলে দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার সম্পাদক লিটন দত্ত ১১ লক্ষ টাকা ধার নেয়। বিষয়টি লিটন দত্তের স্ত্রী সঞ্চিতা দত্ত ও তার শ্যালক কল্যাণ বিশ্বাস ওরফে লালু জানতো। সময়মত টাকা পরিশোধ না করায় বার বার লিটন দত্তকে তাগাদা দিলে সঞ্চিতা ও লালু কিছুদিন অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করে। এভাবে তারাও বার বার সময় নিতে থাকে এবং আশ্বস্ত করে বলে তারা টাকা দিয়ে দেবে। এরই মধ্যে গত ০৯ সেপ্টেম্বর বুধবার লিটন দত্ত স্ত্রীকে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে রিজভী জামিনদার লিটনের শ্যালক কল্যাণ বিশ্বাস লালুর নিকট গেলে লালু আমার ছেলে রিজভীকে সান্তনা দেয়। এক পর্যায়ে লালু স্বেচ্ছায় উক্ত টাকা পরিশোধের জন্য রিজভীকে একটি চেক দেয়। অথচ পরবর্তীতে জোরপূর্বক চেক নেয়া হয়েছে বলে প্রচার চালায় লিটন দত্তের শ্যালক লালু। এমনকি থানায় মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে টাকা না দেয়ার অপচেষ্টা করে। শুধু তাই নয় মিথ্যা কাল্পনিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধুয়া তুলে গত শুক্রবার (০২ অক্টোবর) আমাকে ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী উল্লেখ করে মুলিয়া বাজারে মানববন্ধন করে। ওই মানববন্ধনে হিন্দু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ করে সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দেয়া হয়। টাকা আত্মসাতের জন্য এ ধরনের জঘন্য কার্যক্রম খুবই দুঃখজনক।

সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলামের ছেলে রিজভী লিটন দত্তের সাথে তার মেসেঞ্জার চ্যাটিংয়ের একটি স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের প্রদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায় সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর লিটন দত্ত তাকে বলেন, ‘টাকা রেডি করে আমি সামনে আসছি। তোর টাকা সবার আগে পাবি’। এরপর রিজভি লিটনের সঙ্গে কল দিয়ে কথা বলতে চাইলে লিটন বলেন, ‘আমি একটু পর কল দিচ্ছি’। এরপর থেকেই সে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ সময় নজরুল ইসলামের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নড়াইল পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র খান কবির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফায়েল আহম্মেদ, সাবেক পৌর কাউন্সিলর বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আব্দুর রশীদ মন্নু, মুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার গনেষ চন্দ্র বিশ্বাস, মিলন বিশ্বাস, রিজভী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক খান কবিরের নিকট জানতে চান, আপনি গত ২ অক্টোবর শুক্রবার কল্যাণ বিশ্বাসের ডাকা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আপনার ভূমিকা দেখে মনে হয়েছে আপনিই ওই কর্মসূচি অর্গানাইজ করেছেন।

এদিকে আজও আপনার ভূমিকা একই মনে হচ্ছে। এ ধরনের ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে খান কবীর বলেন, আমি চেয়েছিলাম মুলিয়াতে একটি শান্তি স্থাপন করতে। আমি নিজেই নজরুলকে ডেকে নিয়ে কল্যাণ বিশ্বাসের কাছ থেকে নেওয়া চেকটি আনাই এবং চেকটি মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্বায় রাখি। ওই এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। সে কারণে চেয়েছিলাম বিষয়টি কিভাবে শান্তিপূর্ণ ফয়সালা করা যায়, এর বাইরে আমার কোন উদ্দেশ্য নেই এবং ছিলোও না।