ভুয়া সনদধারী গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার! ১৮ বছর পর চাকরী গেল!

57

হায়রে দুনিয়া! মিথ্যা আর অন্যায়ের প্রতিযোগিতায় সত্য আর ন্যায়পরায়নতা প্রতিনিয়ত হুছোট খাচ্ছে। প্রকৃত মেধার মূল্যায়ণ এ প্রতিযোগতার কাছে হার মানতে হচ্ছে।

গত ১৮ বছর ধরে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে চাকরি করেছেন দেলোয়ার হোসেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাসের সনদ দেখিয়েই এ পদে চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার এ শিক্ষা সনদ আসলে ভুয়া। আর এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর পরই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে গণবিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বোর্ড সদস্যদের সম্মতিক্রমে দেলোয়ার হোসেনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান গণবিশ্ববিদ্যালয়ের জেষ্ঠ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৩ আগস্ট গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন দেলোয়ার হোসেন। সম্প্রতি তার আচার-আচরণ দেখে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের। পরে এ বিষয়ে গোপনে তদন্ত করে ট্রাস্টি বোর্ড জানতে পারে দেলোয়ার হোসেন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। চাকরি নেওয়ার সময় তিনি যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাসের সনদ দেখিয়েছেন, তা ভুয়া। এর পরই বোর্ড সভা করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।

গতকালের এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ ছাড়া আরো উপস্থিতি ছিলেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা, অধ্যাপক হোসনে আরা শাহেদ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু।

এ ছাড়া জুম অ্যাপের মাধ্যমে এ সভায় যুক্ত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদ্দাচ্ছের আলী, ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ওয়ালিউল ইসলাম এবং শিরীন পারভীন হক।