দেশে ৫ ধরনের স্বতন্ত্র কোভিড-১৯’র অস্তিত্ব পাওয়া গেছে

36

বাংলাদেশে বৈশ্বিক মহামারি (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাসের ৫ ধরনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আফতাব আলী শেখ। গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির কোভিড-১৯ জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রতিবেদন অবহিতকরণ সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক ডা. মো. আফতাব আলী শেখ জানান, দেশে করোনাভাইরাসের ৫ ধরনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিশ্বের আর কোথাও এমনটি দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে ভাইরাসটির সংক্রমণ, মিউটেশনের হার, জিনগত বৈশিষ্ট্য, নন-সিনোনিমাস মিউটেশন এবং জেনোমিক ফাইলোজেনি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

করোনার জিনগত বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করার জন্য সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ৭ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে এগুলোর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ গ্লোবাল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা শেয়ারিং উদ্যোগ (জিআইএসএআইডি)- তে প্রকাশ করা হয়।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সংগৃহীত নমুনায় শতভাগ ক্ষেত্রে আধিপত্যকারী ভ্যারিয়েন্টের এ ৪১৪ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ৪১৪ হলো স্পাইক রুটিনে ৬১৪তম অবস্থানে অ্যাসপার্টিক গ্লাইসিন হওয়ার কারণ। সেখান থেকে পাওয়া ২৬৩টি কোভিড-১৯ ভাইরাসের মধ্যে ২৪৩টি এজ ক্লেড, ১৬টি এ ক্লেড এবং ১টি ঙ ক্লেডের অন্তর্ভুক্ত।

প্রাপ্ত ২৬৩টি কোভিড-১৯ ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটির সর্বমোট ৭৩৭টি পয়েন্টে মিউটেশন ঘটে। যার মধ্যে আবার ৩৫৮টি নন সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন ঘটায় এবং এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ভাইরাসগুলোর মিউটেশনের হার বার্ষিক ২৪.৬৪ নিউক্লিওটাইড। পুরো বিশ্বব্যাপী এই হার ৭.২৩ এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ১২.৬০।

লক্ষ্য করা যায়, অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ভাইরাসটি অনেক দ্রুত গতিতে তার রূপ পরিবর্তন করছে। স্পাইক প্রোটিনের জিনে ১০৩টি নিউক্লিওটাইড নিউটেশনের মধ্যে ৫৩টি নন সিনোনিমাস এমোনিয়া বেশি প্রতিস্থাপন ঘটে। যার মধ্যে আবার পাঁচটি স্বতন্ত্র। সংগৃহীত নমুনা সময়ের মধ্যে ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে চারটি নিউটেশনের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায়নি।