প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

7

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তিনি সবসময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে ছিলেন। উপমহাদেশের মধ্যে তিনি একজন বড় রাজনীতিবিদ এবং অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭১ সালে ও ‘৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে ভারত আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তার পিছনে প্রণব মুখার্জির ভূমিকাও ছিলো। তিনি তাঁর আত্নার শান্তি কামনা করেন। জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন আজ রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হয় । অধিবেশনের শুরুতেই ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, চলতি সংসদের ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন, ও নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।
শোক আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি সংসদের ২ জন সদস্য, অতীতের সংসদ সদস্য ও সমাজের বিশিষ্টজন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করছেন। তাদের ওপর শোকপ্রস্তাব গ্রহন করা হয়েছে। তাদের প্রতি শোক প্রকাশ করছি। আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি।
তিনি বলেন, এডভোকেট সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে বিডিআর এর ঘটনার সময় রেখেছিলেন সাহসী ভূমিকা। প্রতিটি আন্দোলন -সংগ্রামে তাঁর ছিল মনে রাখার মতো ভূমিকা।
তিনি ইসরাফিল আলম সর্ম্পকে বলেন, একজন মেধাবী ছিলেন ইসরাফিল। আমরা ভবিষ্যতের একজন ভালো পার্লামেন্টারিয়ানকে হারালাম।
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার সবাইকে স্বাগত জানিয়ে সভাপতিণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন নেন। এ অধিবেশনে যারা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত হয়েছেন তারা হলেন আ স ম ফিরোজ, মোতাহার হোসেন, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, কাজী ফিরোজ রশীদ ও সিমিন হোসেন রিমি। সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা সংসদের বৈঠক পরিচালনা করেন। পরে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ১৯ আগস্ট নবম অধিবেশন আহ্বান করেন। সংসদের বিগত অষ্টম অধিবেশন গত ৯ জুলাই শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের দু’টি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা আছে।
করোনা সংক্রমণকালে এ অধিবেশনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগেই সার্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে অন্যদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অধিবেশনের সময় সংসদ ভবনে দর্শনার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগের অধিবেশনের মতো প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিত না হতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যরা মাস্ক পরে অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। বসেছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে। সংসদ ভবনের প্রবেশপথে স্থাপিত জীবাণুনাশক চেম্বারের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত হয়ে তারা সংসদের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। এছাড়া প্রবেশের সময় তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে।
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও তা গ্রহণের পর সংসদের বৈঠক আগামীকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।