মানবসেবায় অদম্য নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ

141

নড়াইলকণ্ঠ : মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বীন মর্ত্তুজার হাতে গড়া সংগঠন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানবসেবামূলক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দারুণভাবে সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি। স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলার উন্নয়ন, দরিদ্র সহায়তা, পরিবেশ, বেকারত্ব দূরীকরণসহ নড়াইল জেলার সার্বিক উন্নয়নে নানা ইস্যুতে তারা নিরলস কাজ করে চলেছে। বিশাল এ কর্মযজ্ঞের ভিতর দিয়ে দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে তিনটি বছর। তৃতীয় বছর শেষে সংগঠনটি আজ চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করলো।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মহিষখোলা নড়াইল এক্সপ্রেস হেলথ্ কেয়ার সেন্টার শরীফ আব্দুল হাকিম ডায়াবেটিক হাসপাতাল চত্বরে কেক কাটার মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভসূচনা করা হয়।

এরপর আলোচনা সভায় নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি শামীমুল ইসলাম টুলুর সভাপতিত্বে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম অনিক ১০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেন। এ সম্পর্কে তিনি আরো জানান, ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ব্রেসলেট নিলামে বিক্রির ২৫ লাখ টাকা এবং নড়াইলের কয়েকজন বিশিষ্টজনের আর্থিক সহায়তায় নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন এ হাসপাতাল নির্মাণ করবে। এ হাসপাতাল থেকে ২৪ ঘন্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা মানমাত্র ফি দিয়ে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারবে। হাসপাতালটি সরকারি অনুমোদনের অপক্ষোয় রয়েছে। অনুমোদন পেলেই এটি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের বক্তব্য রাখেন, সাবেক সাংসদ এ্যাডভোকেট সাঈফ হাফিজুর রহমান খোকন, স্পেকটা হেক্স্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ আকরামুজ্জামানু রন্টু, স্পেকটা হেক্স্রা গ্রুপের পরিচালক মোঃ আহসানুজ্জামান, প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার গর্বিত পিতা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন, নড়াইল রোগী কল্যান সমিতি ও শরীফ আব্দুল হাকিম ডায়াবেটিক হাসপাতালের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মুকিত লাভলু, নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুল হক রোম, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম অনিক, এ্যাডভোকেট রেজাউল খবির রাজু, হোসাইন আহম্মেদ সোহান সহ প্রমুখ।

‘নড়াইল হবে প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বাসস্থান’ শ্লোগান নিয়ে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, খেলাধুলা, বেকারত্ব দূরীকরণসহ নড়াইলের সার্বিক উন্নয়নে বিগত সময়ে যেসব কর্মকান্ড সম্পাদন করেছে তা নড়াইল কণ্ঠের পাঠকদের জন্য তুলা ধরা হলো-

করোনা মহামারী মোকাবেলায় পদক্ষেপ:
প্রায় ৬৫০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ এম্বুলেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে ৭৬৭ জনকে, এখনো পযন্ত প্রায় শতাধিক করোনা আক্রান্ত রোগীকে বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা দেয়া হয়েছে, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া হয়েছে ৭৩০০ জনকে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসের সমন্বয়ে করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন নয়জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ করে এবং করোনার সম্মুখ যোদ্ধাদের জন্য পযাপ্ত পরিমাণে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করে।

অন্যান্য কার্যক্রম:
তিনটি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ১৩০০জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে; অস্ট্রেলিয়ান সংস্থা ‘দি ফ্রেড হলোস ফাউন্ডেশন’র সহযোগিতায় এবং খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় চারটি চক্ষু ক্যাম্প করে ১৬১৬ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করাসহ লেন্স সংযোজন, বিনামূল্যে চশমা এবং এক মাসের ওষুধ দেয়া হয়েছে ২৫৪ জনকে; ‘বাঁধন’ নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ইউনিটের সহযোগিতায় ৭টি ব্লাড গ্রুপিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নিণয় করা হয়েছে ২২০০ জনের; আইপিডিসি ফাইন্যান্স এর অর্থায়নে একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম নির্মাণাধীন রয়েছে; নড়াইলে আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্যাথলজি সেবা থাইরোকেয়ার চালু করা হয়েছে; জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য এম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে; কনসার্ট ফর হেল্পলেস কনর্সার্ট থেকে উপার্জিত ৬,৬৫,০০০/- টাকা নড়াইলের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে; চৌরাস্ত ও রূপগঞ্জ বাজারে সম্পূর্ণ ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে; শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দিক নির্দেশক স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে; নড়াইল ও লোহাগড়া পৌর এলাকায় ১২০টি আধুনিক ডাস্টবিন বসানো হয়েছে; প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সোলার প্যানের এবং লাইট বিতরণ করা হয়েছে; পুরাতন ফেরিঘাট ও এসএম সুলতান ঘাটের স্থাপত্য ডিজাইন সম্পন্ন করা হয়েছে; নড়াইল জেলাকে নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে; যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বনির্ভর করার ব্যাপারে ‘ইয়ুথ ফর চেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালা করা হয় এবং প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট এর সবধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সেবার উপরে ৫০% ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়াও প্রতিবছর নড়াইলের ২০জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়; ইরি’ এর সহযোগিতায় নড়াইল জেলার ১০০০ প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ৫টন উন্নতমানের ধানের বীজ বিতরণ করা হয়; ক্রিকেট, ফুটবল, ও ভলিবল খেলায় সেরা ৩০জন করে খেলোয়াড় বাছাই করে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়; নড়াইল এবং লোহাগড়া পৌর এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাযক্রম সম্পন্ন করা হয়; শীতকালে অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয় এবং পরিবেশ রক্ষায় নদীর গুরুত্ব অনুধাবন করে চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীর কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে।

বিস্তারিত জানতে ভিডিও দেখুন: