ঋণের কোন অর্থ খরচ হয়নি পদ্মাসেতু রেলসংযোগ প্রকল্পে

72

জিওবি’র অর্থ খরচ হলেও ঋণের কোন অর্থ খরচ হয়নি পদ্মাসেতু রেলসংযোগ প্রকল্পে। সদ্য সমাপ্ত (২০১৯-২০) অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত মোট ৪১টি (৩৭টি বিনিয়োগ ও ৪টি কারিগরি সহায়তা) প্রকল্পের অনুকূলে মোট ১০ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ৭ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এই ৪১টি প্রকল্পের অনুকূলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জুন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ১৯১ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ৪ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর সভা করেছে। সভার কার্যপত্র পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। ঐ সভায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম হওয়ায় জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের আরএডিপি ‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের অনুকূলে মোট বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার কোটি টাকা, যা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মোট বরাদ্দের ৩২ শতাংশ। এ প্রকল্পের আওতায় জুন ২০২০ পর্যন্ত কেবল সরকারি তহবিলের ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের কোন টাকাই খরচ করতে পারেনি প্রকল্প কর্মকর্তারা।
যার ফলে এই প্রকল্পের অনুকূলে সরকারি তহবিলের ৫৪৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের ২ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ২ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। এই প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের ২৩ শতাংশ টাকা খরচ করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, কেবল এই একটি প্রকল্পের অনুকূলে প্রাপ্ত আরএডিপি
বরাদ্দের অব্যয়িত অর্থ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের প্রায় ২৫ শতাংশ। অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে ‘খুলনা হতে মংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের অনুকূলে প্রাপ্ত আরএডিপি বরাদ্দের ৩৮২ কোটি
টাকা অব্যয়িত রয়েছে।

ঐ সভায় রেলমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন বাড়াতে মাসভিত্তিক সভা ও এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালকদেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পদ্মাসেতু রেল সংযোগ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২৩ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৮ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় ভাঙ্গা জংশন অনুমোদিত মূল ডিজাইনের পরিবর্তে চাইনিজ স্টাইলে স্টেশন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেন পিডি। তবে চাইনিজ স্টাইলে ভাঙ্গা স্টেশন ভবনের নির্মাণের ক্ষেত্রে
প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে ও চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে নির্ধারিত কাজের পরিধি ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। অনুমোদিত মূল ডিজাইন অনুযায়ি ভাঙ্গা স্টেশনে পৃথক এন্ট্রি ও এক্সিট, এক্সেল কন্ট্রোল, টিকেট পাঞ্চিং ইত্যাদি সুবিধার সংস্থান রাখা হয়েছে। এই পর্যায়ে মূল ডিজাইনের পরিবর্তে চাইনিজ স্টাইলে করতে হলে এ কাজ বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ২৮০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প পরিচালক সভায় বলেন, এই প্রকল্পের অনুকূলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের আরএডিপিতে মোট বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩১৩ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পে মোট বরাদ্দের ৯৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬ শতাংশ। এ প্রকল্পের সাইটে দ্রুত রিসোর্স মবিলাইজেশন করে ডিসেম্বর ২০২০ সালের মধ্যে ভৌত কাজ শুরু করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।
দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মায়ানমারের নিকটে গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পে আরএডিপিতে মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবির ৩৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের অনুকূলে সরকারি তহবিলের ৩১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের ৯৩৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ১৩ শতাংশ।