করোনার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা : বিল গেটস

90

বিল গেটস ২০১৫ সালেই পৃথিবীর সংকট সৃষ্টিকারী ভাইরাস নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কানাডার ভ্যাংকুভারে এক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী কয়েক দশকে যদি কোনো কিছুতে এক কোটি লোকের মৃত্যু হয়, সেটা হয়তো হবে অত্যন্ত সংক্রামক একটা ভাইরাসের কারণে, কোনো যুদ্ধ নয়।’ বিল গেটসের সেই পূর্বাভাস আজ সত্যি হতে চলেছে।

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা এ ধনকুবের মানবজাতির জন্য আবারো এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।তিনি বলেছেন, করোনা মহামারি ভয়ংকর, তবে জলবায়ু পরিবর্তন এর চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে করোনাভাইরাস সমস্যার মতোই জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাটি জরুরি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি যথোপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া যায়, তবে এর প্রভাব আরও ধ্বংসাত্মক হতে পারে। চলতি সপ্তাহে বিল গেটস তার লেখা এক ব্লগ পোস্টে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত এ জরুরি বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিল গেটস বলেন, করোনাভাইরাসে প্রতি লাখে মৃত্যুহার ১৪ জন। তবে এ শতকের শেষ নাগাদ যদি বর্তমান হারে কার্বন নির্গমনের হার চলতে থাকে, তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই প্রতি লাখে অতিরিক্ত ৭৩ জনের মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে।

বিল গেটস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কী ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে, তা বুঝতে কোভিড-১৯–এর ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের ভোগার দিকটিতে দৃষ্টি দেওয়া যেতে পারে। এ মহামারিতে মানুষের প্রাণ হারানোর পাশাপাশি আর্থিক দুর্দশা আমরা লক্ষ করেছি। এখন আমরা যদি কার্বন নির্গমন দূর করতে না পারি, তবে এ দুর্দশার বিষয়টি আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠবে।

গেটস বলেন, আগামী ২০ বছরের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এতটাই খারাপ হবে যে প্রতি দশকেই একবার করে কোভিড-১৯ মহামারি ঘটার মতো বিষয় হবে।

বিল গেটস বলেন, ‘কোভিড-১৯ থেকে যদি আমরা শিক্ষা নিতে পারি, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফল সম্পর্কে আমরা বোঝাতে সক্ষম হব। আমরা সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে ও জীবন রক্ষার্থে আরও প্রস্তুত থাকতে পারব। বর্তমান বৈশ্বিক সংকট–পরবর্তী সংকট সম্পর্কে প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সমাধান বের করার কাজও করতে হবে।’

বিল গেটস বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অবশ্যই কোভিড-১৯–এর তুলনায় আরও কঠিন হবে। যারা এটা ঘটতে দেবে, তাদের জন্য এটি আরও খারাপ ফল বয়ে আনবে। যেসব দেশ এ সমস্যা বেশি সৃষ্টি করছে, তাদেরই এর সমাধান বের করার দায়িত্ব।’