ক্রসফায়ার শব্দটি এনজিওওয়ালাদের -আইজিপি

38

‘ক্রসফায়ার শব্দটি এনজিওওয়ালাদের।’ আমরা এই শব্দের সঙ্গে একমত নই। গতকাল বুধবার (০৫ আগস্ট) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কক্সবাজারের টেকনাফ গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

সম্প্রতি পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনায় টেকনাফ যান সেনপ্রধান ও পুলিশপ্রধান। দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘেঁষা সেনাবাহিনীর বিশ্রামাগার জলতরঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সেনাপ্রধান ও পুলিশ প্রধান এবং জনপ্রশাসনের ঊর্ধবতন কর্মকর্তারা রুদ্ধদার বৈঠক করেন।

এর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা ক্রসফায়ার শব্দের সঙ্গে একমত নই। এটি এনজিওরা ব্যবহার করে। যারা আমাদের এখানে এনজিওগিরি করেন, বিভিন্ন কারণে বিদেশ থেকে তারা টাকা-পয়সা আনেন। ঝকঝকে গাড়িতে চড়েন, অফিসে বসেন। তারাই এ রকম শব্দ ব্যবহার করেন। কারণ জাস্টিফাই করতে হলে তো অনেক রকম কথাই তাদের বলতে হয়। আর সেগুলোর মধ্যে একটি হলো ক্রসফায়ার।

পুলিশপ্রধান আরো বলেন, প্রায় ৫০ বছরের সুসম্পর্ক রয়েছে সেনাবহিনী ও পুলিশবাহিনীর মধ্যে। পারস্পারিক আস্থা, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক রয়েছে এই দুই বাহিনীর মধ্যে। এই ঘটনায় (সেনা কর্মকর্তা হত্যা) কোনোভাবেই তার অবনতি হবে না। পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, সরকারের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে তারা তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, সফল হবে না তারা।

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় যদি আরো কেউ মামলা করতে চায়, করতে পারে। কারণ নাগরিক হিসেবে তার সেই আইনগত অধিকার আছে। আবার কেউ যদি মামলা করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, সেক্ষেত্রে মামলা সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হবে।

অন্যদিকে, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদের হত্যাকাণ্ড একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়। দেশের স্বাধীনতার পর থেকেই সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। ভবিষ্যতেও সেটা বজায় থাকবে।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সময় বলা হয়, রাশেদ সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। এর পর তিনি ‘পিস্তল বের করলে’ দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও মামলা করা হয়েছে।

সিনহা ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সেনানিবাসে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় অবসরে যান। ৫১ বিএমএ লং কোর্সে অংশ নিয়ে সেনাবাহিনীতে কমিশন পেয়েছিলেন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর থেকে সিনহা ভ্রমণ বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি বানানোর কাজ করছিলেন। ‘লেটস গো’ নামে ওই ডকুমেন্টারির কাজেই গত এক মাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। আরো তিন সঙ্গীসহ তারা উঠেছিলেন নীলিমা রিসোর্টে।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার সিনহা রাশেদের মা নাসিমা আক্তারকে ফোন করে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে সমবেদনা ও সান্ত্বনা দেন। সেইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং আর্থিক সহায়তারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে ২১ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।