শাজাহান-কন্যার ‘ভুয়া রিপোর্টের’ উৎস কোথায়?

58

করোনাভাইরাস পজেটিভ হওয়ার পরও ‘ভুয়া করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট নিয়ে লন্ডন যাওয়ার চেষ্ট করেন সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খান। পরে তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা।

এদিকে, ঐশী খানের কাছে কীভাবে ‘ভুয়া করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট আসলো তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরির কর্মকর্তারাও কিছু বলতে পারছেন না। আর রিপোর্টটিতে যার স্বাক্ষর ছিল, তিনিও বিষয়টিকে না জানার ভান করে এড়িয়ে গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরির কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরীক্ষায় তার রেজাল্ট পজেটিভ এবং তাকে পজেটিভ রিপোর্টই দেয়া হয়েছে। এমনকি ওই রিপোর্টের মূল কপিটিও তারা দেখিয়েছেন।

সেখানে দেখা যায়, পজেটিভ রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারাল সেন্টারের পরিচালক এবং প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। অন্যদিকে, বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া নেগেটিভ রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) বায়েজিদ বিন মনির।

এ বিষয়ে নেগেটিভ রিপোর্টে স্বাক্ষর দেয়া বায়েজিদ বিন মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিস সময় শেষে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে কালকে (সোমবার) সকালের আগে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারবেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলছেন, শনিবার মহাখালী থেকে তার মেয়ের নেগেটিভ রিপোর্টের হার্ডকপি নিয়ে আসেন ওনার বিশেষ সহকারী। কিন্তু রোববার ইমিগ্রেশনে চেক করার পর সেটি পজেটিভ দেখায়। তার রিপোর্ট অনলাইনে এবং হার্ডকপিতে কীভাবে ভিন্ন হলো, তা নিয়ে সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ করবেন বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ও অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, সংশ্লিষ্ট ল্যাবের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্টটি যাচাই করা হয়েছে। এতে ওই রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে। কিন্তু তিনি নেগেটিভ সার্টিফিকেট কোথা থেকে পেয়েছেন, তা আমরা জানি না।

এর আগে রোববার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-০০১ ফ্লাইটে লন্ডন যাওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন ঐশী খান। এ সময় নিয়ম অনুযায়ী তার সঙ্গে থাকা করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট চেক করেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। চেক করার পর দেখা যায়, সার্টিফিকেটটি ‘ভুয়া’। তাই সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আবার বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।