‘স্যার, আমি অন্যায় করেছি, ‘আমি সবার টাকা ফিরত দিয়ে দেব’ -আদালতে সাহেদ

14

‘স্যার, আমি অন্যায় করেছি। আমি অপরাধী। এ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি। আর যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, সেই সব পাওনাদারের সব টাকা ব্যবসা চালু হলে আস্তে আস্তে পরিশোধ করব। গত ১২-১৩ দিন ধরে আমি খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছি। রিমান্ডে গেলে আমি আর কুলাতে পারব না। অনেক প্রেশারের মধ্যে রয়েছি। আমি সবার টাকা ফিরত দিয়ে দেব। রিমান্ড শুনানি ঈদের পর হলে ভালো হয়। আমি এখন অসুস্থ।’

রিমান্ড শুনানির সময় বিচারক আসামি সাহেদের কাছে তার কিছু বলার আছে কি না, জানতে চাইলে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজ কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেন প্রতারণার জাদুকর রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ। পরে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার পৃথক চার মামলায় সাত দিন করে মোট ২৮ দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী।

এর আগে গতকাল রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও উত্তরা পূর্ব থানার চার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। এ সময় সাহেদের আইনজীবীরা তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে র্যাব। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি মামলায় তাকে ১০ দিন করে মোট ৪০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলা রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা। এর মধ্যে দুটিতে ইট, বালু, সিমেন্ট সরবরাহের টাকা আত্মসাত্, অন্যটিতে হোটেলের অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরা পূর্ব থানার মামলাটি জাল টাকা রাখার অভিযোগে।

রিমান্ড শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পিপি সাজ্জাদুল হক শিহাব আদালতে বলেন, পরীক্ষা না করেই ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দিয়েছেন, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। তারা একটা চক্র। এ চক্রের আরো লোকজনের নাম-ঠিকানা জানা এবং আরো তথ্যের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৪০ দিনের রিমান্ডে দেওয়া হোক। এছাড়া অতিরিক্ত পিপি কে এম সাজ্জাদুল হক শিহাব বলেন, তারা বড় রকমের প্রতারক। এই আসামি প্রতারণার গুরু, জাতীয় প্রতারক। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

রিমান্ড আবেদনে আরো বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ নিজেকে সুধী ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি বলে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে সে একজন ধুরন্ধর, অর্থলিপ্সু ও পাষাণ্ড প্রকৃতির লোক। অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার কাছে মানুষের জীবন-মৃত্যুর কোনো মূল্যই নেই। এদিকে রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকেও রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে একই বিচারক তিন মামলায় সাত দিন করে ২১ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

উল্লেখ্য, করোনার ভুয়া রিপোর্ট এবং করোনা রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগে র্যাব শাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়। এ ঘটনায় সাহেদ পলাতক হলে ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। সাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।