রাজধানীর সাহাবউদ্দিন হাসপাতালের এমডিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা

9

নড়াইল কণ্ঠ : দেশে চুরি আর চুরি, টাউট বাটবাপর আর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। এরই মধ্যে েরিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদের অভিনব কায়দায় কেলেঙ্কারীর দ্বার উন্মচন হওয়ার পর পর নতুন আবিষ্কার হলো রাজধানীর বেসরকারি সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভয়াবহ জালিয়াতির গল্প। অনুমোদন ছাড়া করোনা পরীক্ষা ও ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর এ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‌্যাব)।

সোমবার দিবাগত রাতে গুলশান থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, জালিয়াতির এই মামলায় বর্তমানে র‌্যাব হেফাজতে থাকা হাসপাতালটির দুই কর্মকর্তাসহ আরো একজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামির তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান তিন আসামি হলেন- সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসনাত (৫২), ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির সাদির (৩৩) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আল ইসলাম (৩৪)। এর মধ্যে বর্তমানে র‌্যাব হেফাজতে আছেন ডা. মো. আবুল হাসনাত ও ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির সাদির। অপরজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলশান-২-এ অবস্থিত সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‌্যাব। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে এ অভিযানে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে বেশ কিছু জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযানে একটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থেকে পাঁচটি মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী (এনডোট্রাসিয়াল টিউব) উদ্ধার করা হয়। পরে এসব সার্জিক্যাল সামগ্রীগুলো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করে দেখা যায়, এগুলোর সবগুলোর মেয়াদই ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া হাসপাতালটির আরো চারটি ওটি রয়েছে। যেগুলো তালাবদ্ধ ছিল।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ অভিযানে উপস্থিত থাকা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অপারেশনের সময় এই এনডোট্রাসিয়াল টিউবগুলো রোগীদের গলার ভেতর ঢুকিয়ে অজ্ঞান করা হয়। এই সার্জিক্যাল সামগ্রীগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় রোগীর প্রাণ হারানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ ছাড়া কিছু পরীক্ষা বাইরের হাসপাতাল থেকে করে তা নিজেদের হাসপাতালের প্যাডে লিখে রোগীদের দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি মাস্ক, গ্লাভস- এগুলো একাধিকবার ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই র‌্যাপিড কিট দিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে আসছিল এই হাসপাতালটি। তারা অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে ৩-১০ হাজার টাকা করেও আদায় করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।