সাহেদ, শামীম, পাপিয়া, পাপুলদের তালিকা কত লম্বা হবে আ. লীগে?

51

মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, জি কে শামীম, পাপিয়া, শহিদুল ইসলাম পাপুল। এমন অসংখ্য নাম আছে, যারা সুখের দিনে আওয়ামী লীগে এসে ক্ষমতাসীন দল থেকে সুবিধা নিয়েছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। দলের আদর্শ বিক্রি করে এবং প্রতারণা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন বা বিত্তবৈভব রক্ষা করেছেন। কিন্তু এরা কেউই দলের ত্যাগী নেতাকর্মী নন। দলের জন্য তাদের শ্রম, সংগ্রাম, অবদান কোনোটাই নেই। এরপরও এরা আওয়ামী লীগে এসেছেন, দলীয় পদ পেয়েছেন বা সংসদ সদস্যও হয়েছেন। এখন মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় তাদের দলে আনার এবং পৃষ্ঠপোষকতার দায় নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগের কেউই।

যদিও আওয়ামী লীগ ত্যাগী নেতারা দলের এসব সুদিনের পাখিকে খুব একটা পাত্তা দিতে রাজি নন। তারা বলছেন, এমন দু’চারজন প্রতারকের কারণে ঐতিহ্যবাহী, সংগ্রামে অনন্য, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সুনাম বা ঐতিহ্য কোনোটাই বিনষ্ট হবে না। তবে, এরা কীভাবে দলে আসে, কাদের মাধ্যমে আসে সে বিষয়ে এখন থেকে কঠোর নজর রাখা হবে। প্রয়োজনে জবাবদিহির ধারা চালু
করা হবে।

এ মুহূর্তে সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা জালিয়াতি নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। সাহেদ প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন। একই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ‘জেকেজি’র দুই কর্ণধার আরিফ চৌধুরী ও তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা। সাহেদ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। আরিফ-সাবরিনার দলীয় পদ না থাকলেও সাবরিনার সম্পর্ক ছিল আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে। এর আগে প্রতারণা ও কেলেঙ্কারির দায়ে গ্রেফতার হয়ে জেলে থাকা শামীমা নূর ওরফে পাপিয়া ছিলেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক। টেন্ডার জালিয়াতির নায়ক জি কে শামীম (গোলাম কিবরিয়া শামীম) ছিলেন যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। যদিও কাগজে-কলমে তার কোনও পদ ছিল না। একইভাবে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মানবপাচারকাণ্ডে কুয়েতে গ্রেফতারকৃত কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল বা তার স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামেরও আওয়ামী লীগে কোনও পদ নেই। কিন্তু তাদের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কানেকশন রয়েছে।

এদের আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আওয়ামী লীগ সুবিশাল রাজনৈতিক দল। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সংগঠন বিস্তৃত। কে কোথায় যোগ দিচ্ছেন, কীভাবে দলে আসছেন সেটা সবসময় রেকর্ড যেমন থাকে না, তেমনি এমন দুয়েকজনের কুকর্মে দলের কিছু যায় আসে না। কেননা, এ দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জাতি গঠনের প্রতিটি সোপানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। তবে, এসব অনুপ্রবেশ বলি আর আদর্শের অপব্যবহার বলি, এসব নিয়ে ভবিষ্যতে দল অবশ্যই সতর্ক থাকবে।

বিষয়টিতে আরও সুস্পষ্ট করে বলেন দলের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। তিনি একটি গল্পের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এক হাতির পিঠে একটি মশা এসে বসেছিল। সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় সে তা হাতিকে জানিয়ে যাচ্ছিল। হাতি প্রত্যুত্তরে বলে, তুমি চলে যাচ্ছ যাও। তুমি কখন এসে বসেছো তা যেমন জানি না, চলে গেলেও কিছু এসে যায় না।’

সাহেদের আগমন
সাহেদ আওয়ামী লীগের গত কমিটির (২০১৬-২০১৯) আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটিতে সদস্য ছিলেন। এটাই তার আওয়ামী লীগে প্রথম পদার্পণ। সেখানে তার নাম মোহাম্মদ সাহেদ। এবারও (২০১৯-বর্তমান) এই কমিটির অনেক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। উপ-কমিটির অভ্যন্তরীণ বৈঠক, কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার প্রমাণ এ প্রতিবেদকের কাছে আছে। এই উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জমিরের সঙ্গে ছবিসহ আওয়ামী লীগ নেতা, মন্ত্রী, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতির ছবিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভাইরাল। কিন্তু তিনি কীভাবে দলে এলেন তার সদুত্তর নেই কারও কাছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে, মোহাম্মদ জমিরের হাত ধরেই দলে সাহেদের আগমন। কিন্তু এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি মোহাম্মদ জমির। তিনি অসুস্থ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও এ সংক্রান্ত উপ-কমিটির সদস্য সচিব ডা. শাম্মি আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি জানান, এবারের কমিটিতে এখনও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন হয়নি। এদিকে ডা. শাম্মিও সাহেদের অন্তর্ভুক্তি বা তার প্রসঙ্গে কোনও কথাই বলতে চাননি।

পাপিয়ার মক্ষীরানি হয়ে ওঠা
শামীমা নূর পাপিয়া। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে তিনি ছিলেন আতঙ্কের এক নাম। নারী, মদ আর অনৈতিক কাজ-কারবারের আখড়া গড়েছিলেন রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে। ছিলেন যুব মহিলা লীগ নরসিংদী শাখার সাধারণ সম্পাদক। গ্রেফতার হওয়ার পর বহিষ্কার হন। তার ক্ষেত্রেও কেউ দায় নিতে চাননি। যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ঢাকা মহানগর শাখার নেতা সাবিনা আক্তার তুহিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা কারও অজানা ছিল না। এমনকি আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতার পা টেপার দৃশ্য তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। কিন্তু পরে আর কেউ তার দায়িত্ব নিতে চাননি। সবাই তার সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছিলেন। দাবি করেছিলেন সাংগঠনিক সম্পর্কের বাইরে কোনও সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু এই পাপিয়া কী করে সংগঠনে এলেন? তিনি ২০১৪ সালের আগে আওয়ামী লীগ বা এর সংশ্লিষ্ট কোনও সংগঠনে ছিলেন না। ২০১২ সালে নরসিংদী ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সুমন বিয়ে করার পরেই তিনি আওয়ামী মহলে আসা-যাওয়া শুরু করেন। ১৪ সালের ডিসেম্বরে হয়ে যান জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক।

২০১৪ সালে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল সম্মেলন করলেও নরসিংদীতে কমিটি দিতে পারেননি। পরে ঢাকায় ফিরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নরসিংদী জেলা কমিটি ঘোষণা করেন, তাতে পাপিয়াকে দেওয়া হয় সাধারণ সম্পাদকের পদ। এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হীরু পাপিয়াকাণ্ডের সময় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০১৪ সালে সম্মেলনে পাপিয়ার নাম প্রস্তাব করলে আমি বিরোধিতা করি। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, পরে সম্মেলনে নাম ঘোষণা করতে গেলে আমি বলি, পাপিয়ার নাম কোনোভাবেই কমিটিতে রাখা যাবে না। পরে নাজমা ও অপু নরসিংদীতে কমিটি দিতে না পেরে ঢাকায় গিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি দেয়।’

যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আকতার কাছে দাবি করেছিলেন, জেলা কমিটিতে পাপিয়া আগে কোনও পদে না থাকলেও পরে তাকে পদ দিতে অনেকটা বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। নরসিংদীর একটি পক্ষ পাপিয়াকে পদ না দেওয়ার জন্য বলেছিল। কিন্তু যুব মহিলা লীগের একটি অংশের কারণেই তাকে নেতা বানাতে হয়েছিল। তাকে পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলের সমর্থন ছিল বলে অনেক নেতা অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় অপু উকিল তা অস্বীকার করে বলেন, নরসিংদী আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপারিশে পাপিয়াকে পদ দেওয়া হয়েছিল।
যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের সঙ্গে পাপিয়ার সখ্যের বিষয় অস্বীকার করে তিনি গণমাধ্যমে বলেছিলেন, তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্কের বাইরে কিছু ছিল না। তবে পাপিয়া তার বাসায় নিয়মিত যেত বলে তিনি স্বীকার করেছিলেন।

পাপুলের আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা
পাপুল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। ২০১৭ সালের ৭ জুন রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ লাভ করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬-এর শুরুতে তিনি কুয়েতের প্রবাস জীবন ছেড়ে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। ওই বছরই তিনি রায়পুর পৌর শহরের আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জামশেদ কবির বাকি বিল্লাহের হাত ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করাসহ মানবসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি। পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনে ব্যাপক আর্থিক অনুদান দেওয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি দানবীর ও ধনকুবের হিসেবে পরিচিতি পান। এরমধ্যেই তার পরিচয় হয় কুমিল্লার সাবেক এক মন্ত্রীর সঙ্গে। যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের তৎকালীন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। দলে উল্লেখযোগ্য পদ না পেলেও এরপর তরতর করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইলেও পাননি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া জাতীয় পার্টির তৎকালীন সংসদ সদস্য নোমান হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান নোমান। এরপর আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে চিঠি দিয়ে পাপুলকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। নিজে এমপি হওয়ার কিছু দিন পর তার সহধর্মিণী সেলিনা ইসলাম স্বতন্ত্র কোটায় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ জানান, ২০১৬ সাল থেকে পাপুল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও তার কোনও পদ-পদবি ছিল না।

পাপুলের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ কিছু দিন আগে একটি গণমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি শুনেছি পাপুল টাকা দিয়ে সবাইকে কিনেছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকেও পকেটে নিয়েছে টাকা দিয়ে। এ সুবাদেই সে এমপি হতে পেরেছে, স্ত্রীকেও এমপি বানিয়েছে। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে চিঠি দিয়ে কাজ করতে বলার বিষয়টিও আশ্চর্যজনক, দুঃখজনক। আমি বলবো, আপনারা মিডিয়ার লোকরাই বের করবেন এর পেছনে কারা ছিল, কাদের পকেটে গেছে পাপুলের টাকা। পাপুল আওয়ামী লীগের কেউ নয় এটা যেমন সত্যি, টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের হয়েছে এটাও সত্যি। আসলে শেখ হাসিনার উদারতাকে অনেকেই সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন।’

যুবদল নেতা থেকে যুবলীগ নেতা হয়ে ওঠা শামীম
ক্যাসিনোকাণ্ড এবং টেন্ডারবাজিতে যুবলীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কিছু দিল আগেও দেশে ছিল তোলপাড়। আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরই কেবল অ্যাকশন শুরু হয়। সম্রাট-খালেদের পর নাম আসে জি কে শামীম ওরফে গোলাম কিবরিয়া শামীমের। কাগজে-কলমে যুবলীগে তার পদ ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগের সহযোগী এ সংগঠনের অনেক নেতা জানান, শামীম সমবায় সম্পাদক পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বৈঠকেও অংশ নিতেন। যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ অনেক নেতার সঙ্গে সে সময় তার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে তিনি ছিলেন যুবদল নেতা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পর এজিবি কলোনি, হাসপাতাল জোন এবং মধ্য বাসাবোতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন শামীম। ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের মাধ্যমে তার রাজনীতি শুরু। পরবর্তী সময়ে মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা কালু ও মির্জা খোকনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় এবং তাদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে গণপূর্ত ভবনের ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন। ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক হয়েছিলেন। একসময় মির্জা আব্বাস আর খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবিসহ সবুজবাগ-বাসাবোসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শোভা পেতো জি কে শামীমের ব্যানার-পোস্টার। পরে সেখানে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবিসহ ছিল জি কে শামীমের পোস্টার-ব্যানার।

এ ধরনের ব্যক্তিদের দল-সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংগঠনে এসব নিয়ে আলোচনা হবে। দায়ীদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। প্রয়োজনে দলে এদের প্রবেশ ঠেকাতে জবাবদিহির ধারা সংযোজন করা হবে।

তথ্য সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন