সাহেদের স্বাক্ষরিত ৪৮টি চেক, ইয়াবাসহ রিজেন্টের এমডির ভায়রা গ্রেফতার

57

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : দেশে বহুল আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপের প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থেকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. শাহেদ করিম স্বাক্ষরিত ৪৮টি চেক বইয়ের পাতা ও বেশকিছু অফিসিয়াল সীল উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় আশুলিয়া-কাশিমপুর সড়কে অভিযান চালিয়ে এগুলো উদ্ধার করে র‌্যাব-১ এর একটি দল।

এ সময় সেখান থেকে রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজের ভায়রা গিয়াস উদ্দীন জালালীকে তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও চালকসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তল্লাশি করে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে ২ হাজার ১২০ পিস ইয়াবাসহ ১০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়।

তথ্যটি নিশ্চিত করে ‌র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, রিজেন্ট গ্রুপের প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া গিয়াস উদ্দীন জালালী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার রুপসাদী গ্রামের মৃত ফকির সুলতান জালালীর ছেলে ও রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজের ভায়রা। প্রাইভেটকার চালক মাহমুদুল হাসান শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার ছোট কৃষ্টনগরের ফয়জুল মাতবরের ছেলে।

তাদের কাছ থেকে শাহেদ করিমের সিল ও স্বাক্ষরিত প্রিমিয়ার ব্যাংক, গরিবে নেওয়াজ এভিনিউ শাখার ৪৮টি চেক বইয়ের পাতা ও রিদম ট্রেডিংয়ের নামে ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রগতি স্মরণি শাখার একটি চেক বই উদ্ধার করা হয়। প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ১০ বোতল ফেন্সিডিল ও ২ হাজার ১২০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।

এদিকে তদন্তের স্বার্থে গতকাল বৃহস্পতিবার শাহেদ করিমকে ১০ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মাসুদ পারভেজের ১০ দিন ও কর্মী তরিকুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কেঁদে ফেলেন শাহেদ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, শাহেদ নিজেকে ক্লিন ইমেজের বলে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে সে একজন ধুরন্ধর, অর্থলিপ্সু ও পাষণ্ড প্রকৃতির লোক। অর্থ আত্মসাৎ করার ক্ষেত্রে এই লোকের কাছে মানুষের জীবন-মৃত্যুর কোনো মূল্য নেই। সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে করোনার ভুয়া রিপোর্ট ও চিকিৎসা দেয়ার নাম করে রোগীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে।