মানিকগঞ্জে ডাক্তারী না পড়েই এমবিবিএস ডাক্তার!

59

নড়াইল কণ্ঠ : মাধ্যমিকের (এসএসসি) গণ্ডি পেরিয়ে এমবিবিএস ডাক্তার পদবি নিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন মানিকগঞ্জের খাগড়াকুড়ি গ্রামের প্রমোদ চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি। এই প্রতারক তার ভিজিটিং কার্ড ও রোগী দেখার ব্যবস্থাপত্রে এমবিবিএস,পিজিটি (সার্জারি), মা ও শিশু রোগে অভিজ্ঞ লিখে মানিকগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা দিতেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ওই প্রতারককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। রানা হোসেন নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ওই ভুয়া ডাক্তারকে জরিমানা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমবিবিএস পদবি ব্যবহার করে প্রমোদ চক্রবর্তী মানিকগঞ্জের সুপার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিংগাইরের বাস্তা ও সাহরাইলের ফার্মেসিতে এবং ভার আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত রোগী দেখতেন। স্থানভেদে তিনি রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট নিতেন ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা। করতেন অপারেশনও।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণার শিকার রানা হোসেন নামে এক ব্যক্তি গত ১ জুলাই ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত ও শুনানি শেষে অভিযুক্ত নামধারী ডা. প্রমোদ চক্রবর্তীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৪ ধারায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ব্যবস্থাপত্রে ব্যবহৃত পদবির স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখতে পারেননি অভিযুক্ত ওই প্রতারক। প্রমোদ চক্রবর্তী স্বীকার করেন কলকাতা থেকে এগার ক্লাস পাস করে একটি কোর্স করেন তিনি। কিন্তু বিএমডিসির কোনো রেজিষ্ট্রেশন তার নেই। ডা. পদবি, এমবিবিএস (ঢাকা),পিজিটি (সার্জারি),মেডিকেল অফিসার,মা ও শিশু রোগে অভিজ্ঞ ইত্যাদি খেতাব ব্যবহার করে এতদিন তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। ভবিষ্যতে তিনি আর এই ধরনের প্রতারণা করবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, ‘এমবিবিএস পদবি ব্যবহার করে প্রমোদ চক্রবর্তী সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে। সেই সাথে ভোক্তা অধিকার আইন মোতাবেক আরোপিত জরিমানার ২৫ শতাংশ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা অভিযোগকারীকে প্রদান করা হয়েছে।’