ভ্যাট জটিলতা : ইন্টারনেট সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায়

49

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : ইন্টারনেটে ভ্যাট জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।

দেশের সার্বিক উন্নয়নে সব খাতে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম হয়ে উঠেছে। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিল আদায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেলেও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট খাতে ৫ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাটের জটিলতা নিরসন ও আইএলডিসি, আইআইজি এবং আইএসপি ইন্ডাস্ট্রিকে আইটিইএস ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।

গতকাল শনিবার আইএসপিএবির এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ছাড়াও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ইন্টারনেট কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। করোনাকালে সরকারি ও বেসরকারি সংবাদ সম্মেলন, অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয়, বিশেষ করে বাড়িতে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ বিশেষ কার্যকরী উপায় হিসেবে চলমান আছে। এ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ আরোপিত ভ্যাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণে চলমান ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপকে বৈষম্যমূলক এবং মূসক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করেছে আইএসপিএবি। ইন্টারনেটে ভ্যাট আরোপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইএসপিএবির প্রস্তাবনা, ইন্টারনেটের সব ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অথবা শূন্য শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সৃষ্ট জটিলতার নিরসন হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও দূর হবে। ফলে সর্বস্তরে ইন্টারনেট গ্রহীতা ও দেশের জনসাধারণ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আসতে পারবেন

আইএসপিএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ও দেশের সব শ্রেণীর জনগণের কথা বিবেচনা করে ইন্টারনেটে ভ্যাট জটিলতা নিরসন করে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ইন্টারনেটে ভ্যাট আরোপের পরিবর্তিত কাঠামোটি অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইন্টারনেট সেবাকে একই গতিতে সচল রাখতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।

তিনি বলেন, সব আইএলডিসি, আইআইজি এবং আইএসপি একই ফর্মে বা ভিন্নভাবে আইটিইএস পরিষেবা প্রদান করে থাকে। এছাড়া আইটিইএস সরকারি নীতিমালা গঠনের আগে থেকে ওয়েব পৃষ্ঠার নকশা, উন্নয়ন ও হোস্টিং, ই-মেইল হোস্টিং, আইটি ও নেটওয়ার্কিং, সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিসেস, কলসেন্টার সার্ভিসেস, টেলিমার্কেটিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং, লুকিং প্লাস ইত্যাদি সেবা প্রদান করে আসছে। যেহেতু ইন্টারনেট আইটিইএস পরিষেবাগুলোর প্রধান, সে কারণে আমরা বিশ্বাস করি আইএলডিসি, আইআইজি এবং আইএসপি উভয়ই আইটিইএস বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য। আইএলডিসি, আইআইজি এবং আইএসপিকে আইটিইএস বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হলে আইটি খাতে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে, যা পুরো আইটি শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।