স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া ডন কে এই মিঠু?

73

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : স্বাস্থ্যখাতের যে কোনো অনিয়মের গোড়া খুঁজতে গেলেই অবধারিতভাবে চলে আসে মিঠু সিন্ডিকেটের নাম। সিন্ডিকেটের এই মিঠু হলেন মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। স্বাস্থ্যখাতের সর্বত্র তার অদৃশ্য জাল ছড়ানো। প্রায় তিন দশক ধরে বিছানো এই জাল দিনে দিনে আরো পোক্ত হয়েছে, আর হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বরাবরেই মতোই আড়ালে থাকা মিঠু। অভিযোগ আছে, এখনো মিঠুর অঙ্গুলি হেলানো ছাড়া স্বাস্থ্যখাতে কোনো কেনাকাটা হয় না।

করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতের যখন টালমাটাল অবস্থা, একের পর এক প্রকট হয়ে উঠছে অব্যবস্থাপনা আর অনিয়ম, তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে মিঠু সিন্ডিকেট। দেশের এই ক্রান্তিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে এটিকে ‘আজগুবি মন্ত্রণালয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ওই মন্ত্রণালয়েরই স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ালী লীগের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। সঙ্গে এও বলেছেন, মিঠু সিন্ডিকেটের জাল না ছিঁড়তে পারলে মন্ত্রণালয় এবং দেশের পুরো স্বাস্থ্যখাতকে সঠিক রাস্তায় ফেরানো যাবে না।

২০১৬ সালে বিশ্ব তোলপাড় করা পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে যে ৩৪ বাংলাদেশির নাম উঠে এসেছিল, তাদের একজন এই মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। দেশ থেকে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন তাদেরই নাম ছিল ওই তালিকায়। তারপর কিছুদিন মিঠুর ব্যাপারে চলে তথ্যানুসন্ধান। সেসময় তার বিরুদ্ধে নন-সাবমিশন মামলা করেছিল দুদক। প্রাথমিক তদন্তের পর রহস্যজনক কারণে মামলার কার্যক্রম থেমে যায়!

স্বাস্থ্যখাতের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মিঠু কখনোই সামনে আসেননি। বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। ৪ বছর আগের ওই প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নামে-বেনামে দেশে মিঠুর ১৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়। তবে লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ এবং টেকনোক্র্যাট লিমিটেড নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত ৯০ শতাংশ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যখাতের শীর্ষ পদগুলোতে যারাই আসেন তারা কিছুদিন পর মিঠুর সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে যান। তাদের মাধ্যমেই স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন না থাকলেও চাহিদা তৈরি করা হয়। শুরু হয় টেন্ডার কারসাজি। মিঠুর প্রতিষ্ঠানের বাইরে কেউ টেন্ডারে অংশ নিতে পারে না, কিংবা নিলেও যাচাই পর্বে বাতিল হয়ে যায়।

এরপরই শুরু হয় আসল লুটপাট। নিম্নমানের মালামাল গছিয়ে দেওয়া হয় অস্বাভাবিক দামে। চীন বা ভারতের তৈরি মালামাল চালিয়ে দেওয়া হয় ইউরোপ-আমেরিকার মালামালের কথা বলে। গত দুই দশক ধরে এটাই হয়ে আসছে। সেসব অকেজো আর নিম্নমানের যন্ত্রপাতির ‘ফল’ ভোগ করছে দেশের কোটি কোটি মানুষ।

মিঠুর গ্রামের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুর ইউনিয়নে। ২০১৬ সালে দুদক তার বিরুদ্ধে যে তদন্ত শুরু করেছিল, সেখানে তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান হিসেবে। এর বাইরেও বেনামে রংপুরসহ দেশের আরো তিনটি হাসপাতালের মালিকানা রয়েছে মিঠুর কব্জায়।

জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, স্বাস্থ্য অধিদফতর, সিএমএসডি, ওষুধ প্রশাসন, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, নার্সিং অধিদফতর, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আছে মিঠুর বিশ্বস্ত এজেন্ট। এদের মাধ্যমেই স্বাস্থ্যখাতে চলে মিঠুর লুটপাটের দৌরাত্ম্য।

সূত্র : বাংলা২৪লাইভ নিউজ