ইউএনডিপি’র শুভেচ্ছাদূত হওয়া প্রসঙ্গে : আমার স্বপ্নপূরণ হয়েছে – মাশরাফি

152

নড়াইল কণ্ঠ : সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল, বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা। বৃহস্পতিবার ( ২৫ ফেব্রুয়ারি)বিকেলে হোটেল লা মেরিডিয়ানে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষনাটাও এলো। বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তিত্ব হিসেবে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) যুব শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তরুণদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ইউএনডিপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি২০ দলের অধিনায়ক মাশরাফি।

জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রঙ্গীন পোশাকের অধিনায়ক মাশরাফি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। খেলোয়াড়ি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও করা হয়েছে অনেক যাচাই-বাছাই। দেখা হয়েছে দেশের সর্বসাধারণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। এই সময়ে মাশরাফির সঙ্গেও কয়েক দফা আলোচনা কNK_Feb_2016_183রেছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি। আগেই জানা গিয়েছিল মাশরাফির শুভেচ্ছাদূত হওয়ার বিষয়টা। বৃহস্পতিবার বিকেলে হোটেল লা মেরিডিয়ানে মাশরাফির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেন ইউএনডিপির বাংলাদেশের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস।

ইউএনডিপির জাতীয় শুভেচ্ছা দূত হিসেবে তরুণদের কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করবেন মাশরাফি। কর্মসংস্থান হবে তথ্য-প্রযুক্তির স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে। টেকনোলজির ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করার জন্য ২৫ হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায়। আর তাই মাশরাফি মনে করেন এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে তরুণরা।

তরুণদের নিয়ে কাজ করা প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘তরুণদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ইউএনডিপিকে ধন্যবাদ। আমার সব সময় স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে কাজ করার। সে হিসেবে এটা আমার জন্য খুব ভালো একটা সুযোগ। আমার মনে হয়, খেলাধুলার পাশাপাশি আমি কাজটা করতে পারবো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহায়তায় কিংবা নিজের উদ্যোগেও আমি তরুণদের জন্য কিছু করতে চাই। এ জন্য প্রস্তাবটা আসার পরই তা গ্রহণ করেছি। আমার কাছে এটি স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো ব্যাপার। আমি চেষ্টা করবো আমার সেরাটা দেয়ার। আমাদের দেশের তরুণদের প্রতি আমার প্রবল বিশ্বাস আছে। আশা করছি তরুণরাই উন্নয়নশীল দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে উন্নীত করবে। ক্রিকেট খেলার পরও অনেক সময় থাকে। তখনই আমি এটা করতে পারবো। মনে হয় না- এটা করা খুব কঠিন হবে আমার পক্ষে।

বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন মাশরাফি। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে এরআগে তিনজন ক্রিকেটার এমন শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএনডিপির বাংলাদেশের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, ‘ইউএনডিপি এবারই বাংলাদেশ থেকে কোনো শুভেচ্ছাদূত নিয়োগNK_Feb_2016_182 দিলো। মাশরাফির আগে তিনজন ক্রিকেটার ছিল, শচীন টেন্ডুলকার, শহিদ আফ্রিদি ও মুত্তিয়া মুরালিধরন। তারা সবাই জাতীয় পর্যায়ে ইউএনডিপির দূত ছিল। মারিয়া শারাপোভা আমাদের বৈশ্বিক দূত। মাশরাফিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জাতীয় দূত হিসেবে। মাশরাফি মূলত কাজ করবেন, তরুণদের জানাবেন কিভাবে ভালো কর্মসংস্থান পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেই আমরা এটা করতে চাই। কারণ তথ্য প্রযুক্তি এমন একটা খাত, যেখানে তরুণরাই শাসন করছে।

ইউএনডিপির এই কাজটা তরুণদের নিয়ে, এ কারণেই আরো বড় স্বপ্ন দেখছেন মাশরাফি। বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে দেশের তরুণরা দেশটাকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, ‘দেশের তরুণরাই কিন্তু দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমি মনে করি এই উদ্যোগটা যদি তরুণদের কাজে লাগে, তবে আমি মনে করি দেশটা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ঠিক কতজন তরুণকে উন্নতি করতে পারলে খুশি হবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। আমি তো চাইবো, সব তরুণই যাতে তাদের কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারে। সব কাজই তো আর সফল হয় না। আমি চাই বেশিরভাগ তরুণদের যাতে এই উদ্যোগটা কাজে লাগে। তবে আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।