আশাশুনিতে আওয়ামী লীগ নেতা শরবত হত্যা,বাবা ও ছেলে গ্রেপ্তার, প্রধান আসামী ডালিম এলাকায়!

30

মধাব দত্ত,সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা শরবত মোল্লা হত্যা মামলায় পুলিশ আরো দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ তাদেরকে গদাইপুর গ্রামের খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিমের মালিকানাধীন মাছের প্রোজেক্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামের দাউদ মোল্রার ছেলে কামরুল ইসলাম মোল্লা (৫৫) ও তার ছেলে রাশিদুল ইসলাম মোল্লা (২৪)।

স্থানীয় গ্রামবাসি জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খাজরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরবত মোল্রাকে গত ১১ এপ্রিল কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে সবুজ হোসেন মোল্লা বাদি হয়ে ১২ এপ্রিল কুখ্যাত রাজাকার মোজাহার সরদারের ছেলে এলাকার মুর্তিমান আতঙ্ক ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ কমপক্ষে একডজন মামলার আসামী খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিমসহ ৫৭ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ চেয়ারম্যান ডালিমের ভাই জুলফিকার জুলিসহ ১০জনকে গ্রেপ্তার করে। চেয়ারম্যান ডালিমসহ অন্য আসামীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। মামলার বাদি সবুজ হোসেন মোল্লা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ডাঃ খন্দকার মহিতউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। দেখা করেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে। বেগতিক বুঝতে পেরে আসামীরা প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে ন্যস্ত করতে সমর্থ হয় বলে তারা জানতে পারেন। ৮ মে মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলামের উপর ন্যস্ত হওয়ার আগেই হত্যা মামলার কমপক্ষে ২০ জন আসামী এলাকায় ফিরে শাহানেওয়াজ ডালিমের মাছের প্রকল্পে অবস্থান নেয়। খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস এর সমর্থকরা আসামীদের চ্যালেঞ্জ জানালে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ডালিম চেয়ারম্যানের বাড়ি ভাঙচুরের মামলার আসামী জামালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন। হাইকোর্টের ভার্চুয়াল আদালতে জামিনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় চেয়ারম্যান ডালিম সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন। গোপনে যাচ্ছেন এলাকায়। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে স্বশরীওে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে হাজির হয়ে দেড় টন চাউলের একটি ডিওতে সাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান ডালিম।

স্থানীয়রা আরো জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গদাইপুরে এলেও কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একপর্যায়ে বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে গ্রামবাসির সহায়তায় পুলিশ কামরুল ইসলাম মোল্লা ও ও তার ছেলে রাশিদুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। তবে কয়েকজন আসামী পালিয়ে যায়। উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন শুক্রবার ভোরে গদাইপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বারী মোল্লার ছেলে চেয়ারম্যান ডালিমের বাড়ি ভাঙচুরের মামলার আসামী হাফিজুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।

সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের উপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন হত্যা মামলায় দু’জন ও ডালিম চেয়ারম্যানের বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন শুক্রবার বিকেলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত,আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’ গ্রুপের সংঘর্ষে এক আওয়ামী লীগ নেতা শরবত মোল্লার মৃত্যু, উভয়পক্ষের ১০ জন আহত ও কমপক্ষে ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সবুজ মোল্লা, ওবায়দুল্লাহ ডাবলু ও জামিলা খাতুন বাদি হয়ে চারটি মামলা দায়ের করেন। এসব মামলায় ১৩৮ জন আসামী হলেও হত্যা মামলাং ১২জন ও ভাঙচুরের মামলায় তিনজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।