বেনাপোল : ভারত ফেরত যাত্রীদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন প্রত্যাহার করা হয়েছে

89

লকডাউনের কারণে ভারতে আটকে পড়া যে সব বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরছিলেন তাদের প্রত্যেককে বেনাপোল পৌর বিয়ে বাড়ি কমিউনিটি সেন্টার ও ঝিকরগাছার গাজির দরগাহ’র প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছিল। কিন্তু সে আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকাল থেকে এ আদেশে ভারত ফেরত যাত্রীদের প্রাথমিক পরিক্ষা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাড়ি গিয়ে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য।

এর আগে গত বুধবার ১৩ মে ২৭০ বাংলাদেশি যাত্রী ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফেরেন। ব্যবসা, চিকিৎসা ও বেড়াতে গিয়ে তারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আটকা পড়েছিলেন।

জানা যায়, গত ৬ এপ্রিলের আগে ভারত থেকে যারা দেশে ফিরছিলেন করোনা সংক্রমণ রোধে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তারা নিয়ম না মানায় হোম কোয়ারেন্টিন নিয়ম বাতিল করে সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন চালু করা হয় গত ৬ এপ্রিল থেকে। এরপর থেকে ভারতফেরত যাত্রীরা সবাই বেনাপোল পৌর বিয়ে বাড়ি ও যশোর গাজীর দরগাহের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন অবস্থান করছিলেন। পরে ঝুঁকি মুক্ত হলে বাড়ি ফিরছিলেন। ১৩ মে সরকারি নতুন নির্দেশনা জারি করে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কারো শরীরে করোনা উপসর্গ না থাকলে তারা নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। এই নির্দেশের পর সবা যাত্রীই বাড়ি ফিরছেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার আবু তাহের জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক যাত্রীদের হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নির্ধারণ করা হচ্ছে। গতকাল ১৩ মে পর্যন্ত যারা দেশে ফিরেছেন তাদের কারো শরীরে করোনার কোনও উপসর্গ না থাকলেও সবাইকে ১৪ দিনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। এখন সবাইকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ করোনার সন্দেহজনক হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন তারা নিয়ম মানছেন কিনা তা নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩৬ দিনে বেনাপোল স্থলপথে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৩ হাজার ৬২৪ জন নারী,পুরুষ ও শিশু। এরা প্রত্যেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তাদের কারও করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।