বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮০তম জন্মবার্ষিকী শুক্রবার

99

নড়াইল কণ্ঠ : বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮০তম জন্মবার্ষিকী শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে “বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাষ্ট” নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রহন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে পবিত্র কোরআনখানী, নূর মোহাম্মদ (মহিষখোলা) নগরে ১০টায় র‌্যালি, এরপর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ কর্তৃক গার্ড অব অনার, ১১টায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমান নূর মোহাম্মদ নগর) জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান তিনি। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা, ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে আছেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামকালে ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এদিন পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও নূর মোহাম্মদ শেখ হাতে এলএমজি এবং আহত নান্নু মিয়াকে কাঁধে নিয়ে শত্রু পক্ষের দিকে গুলি ছুঁড়তে থাকেন। হঠাৎ পাকবাহিনীর মর্টারের আঘাতে তার হাঁটু ভেঙ্গে যায়। তবুও তিনি গুলি চালাতে থাকেন। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।

তার জীবনী থেকে জানা যায়, ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন। বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ’ (বিজিবি)। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করার পরে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন তিনি। ল্যান্স নায়েকে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নের্তৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত করেন। অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব পান। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নূর মোহাম্মদ নগরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।