সারা দেশের ভার্চ্যুয়াল আদালত থেকে বিভিন্ন মামলায় ১০২০ জন জামিন পেয়েছেন

44

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর তৃতীয় দিনে গতকাল বুধবার (১৩ মে) সারা দেশের ভার্চ্যুয়াল আদালত থেকে বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ১৩ জন জামিন পেয়েছেন। আর হাইকোর্ট থেকে পৃথক ফৌজদারি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন সাতজন। এ হিসাবে জামিন পেয়েছেন ১ হাজার ২০ জন।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার সারা দেশের অধস্তন আদালতে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৮৩টি জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়, যার মধ্যে ১ হাজার ১৩ জনের জামিন মঞ্জুর হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালতেও সাধারণ ছুটি চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ৯ মে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য–প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ শিরোনামে অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর ফলে অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অধস্তন আদালতে শুধু জামিন–সংক্রান্ত বিষয়গুলো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। একই দিন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য হাইকোর্টের পৃথক তিনটি বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। তিনটি পৃথক বেঞ্চের তিন বিচারপতি হলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার। ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে শুনানির জন্য সেদিন চেম্বার বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানকে মনোনীত করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চেম্বার আদালত বসার দিন রয়েছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ফৌজাদারি বিষয়াদি শুনানির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। এ হিসেবে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে কার্যক্রমের জন্য গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের সংখ্যা দাঁড়ায় চারে।

জামিন হয়নি সংগ্রাম সম্পাদকের
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে থাকা দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদের আজ হাইকোর্টে জামিন হয়নি। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ জামিন না দিয়ে আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চ শুনানির জন্য আসবে বলেছেন।

ওই মামলায় আসাদের জামিন চেয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে ১১ মে আবেদনটি করেন তাঁর আইনজীবী। আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়। ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে আসাদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সংগ্রামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই সংবাদ প্রকাশের সূত্রে মোহাম্মদ আফজাল নামের একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম সম্পাদকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে পরদিন রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলা করেন। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে চলতি বছরের ২৩ মার্চ বিফল হন তিনি। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়।

জামিন মেলেনি ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদের
তিন কোটি আট লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কারা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (সাময়িক বরখাস্ত) বজলুর রশীদকে আজ বুধবার জামিন দেননি হাইকোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে বজলুরের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মেজবাহুল ইসলাম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, যুক্ত ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ। পরে বশির উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট বজলুর রশীদকে জামিন দেননি, নিয়মিত বেঞ্চে (ছুটি শেষে) আবেদনটি উপস্থাপন করতে বলেছেন। ফলে আপাতত তাঁকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের ২০ অক্টোবর বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। সেদিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়। এই মামলায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বজলুর রশীদের প্রশ্নে জারি রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করেন বজলুর রশীদ। এতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন তিনি।

হাইকোর্টের চার বেঞ্চে আবেদন
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের বেঞ্চে আজ ১৭টি জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এর মধ্যে সাতটিতে সাতজনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হয়। আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় চারটিতে সময় দেওয়া হয়। অপর ছয়টির কোনোটিতে নিয়মিত বেঞ্চে উপস্থাপন করতে ও কোনোটিতে পুনরায় শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

এই বেঞ্চে আজ ই-মেইলের মাধ্যমে আরও ২০টি জামিন আবেদন জমা পড়ে। এ হিসাবে আবেদনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০টি। এর মধ্যে ২৬টি আবেদন আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শুনানির জন্য আদালতে উঠছে। এ ছাড়া বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল একটি আবেদন জমা পড়ে, তবে গুরুত্ব বিবেচনায় তা শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়নি। এই বেঞ্চে এ পর্যন্ত চারটি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে একটিতে শুনানি ও আদেশ হয়েছে। আর গুরুত্ব বিবেচনায় অপর তিনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়নি। বিচারপতি জে এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এখন পর্যন্ত ১০টি আবেদন জমা পড়েছে। আর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদন জমা পড়েনি।