কৃষকের অ্যাপ’র মাধ্যমে নড়াইল সদরে নিবন্ধন ১১১৫২

24

নড়াইল সদর উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’ এর মাধ্যমে বোরো ধান সংগ্রহে নিবন্ধন এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে প্রায় মাসখানেক ধরে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছে কৃষি বিভাগ ও খাদ্য বিভাগ। গত ৩ মে এ কৃষকের অ্যাপ এর মাধ্যমে ধান সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসক সহ কৃষি সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন হাটে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রচারণা চালান।

আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুর পর্যন্ত ধান বিক্রির জন্য প্রায় ১১ হাজার ১৫২ কৃষক এই অ্যাপস এর মাধ্যমে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি বাতায়ন অনুযায়ী উপজেলায় বোরো চাষী রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার। আজ বুধবার পর্যন্ত নিবন্ধনের আবেদনের সংখ্যা ১১ হাজার ১৫২। এরমধ্যে আবেদন গৃহিত হয়েছে ৭ হাজার ২২ জন, অপেক্ষামান রয়েছে ১৯৮৭ জন এবং নিবন্ধিত এই কৃষকের মধ্যে থেকে তথ্যগত বিভ্রাট থাকায় ইতিমধ্যে ২ হাজার ১৪৩ জনের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ সরকারি ঘোষণার পর থেকে কৃষকের অ্যাপ সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যক্রম এবং প্রচারের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। বিভিন্ন হাটে বাজারে এবং ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রগুলোতে এ বিষয়ে অবহিত করার ফলেই কৃষকের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ১৬ মে পর্যন্ত নিবন্ধনের শেষ দিন। এর পরই কৃষকের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষন করে অ্যাপস এর মাধ্যমে লটারি করে ১৭-১৮ মে এর মধ্যে কৃষক নির্বাচন করা হলে ধান ক্রয় শুরু হবে। ধান ক্রয় এবং প্রাপ্ত টাকা ও চেকের ছায়াকপির মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে।

জানা গেছে, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা, ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র কৃষকের অ্যাপ বিষয়ে কৃষকদের নিবন্ধনে সহায়তা করছেন। গতবারের ম্যানুয়াল আবেদনের চেয়ে দ্রুত সময়ে অনলাইনে বেশি আবেদন পড়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, কিছু কৃষক অন্যকে দিয়ে নিবন্ধন করার কারণে অনিয়ম হচ্ছে। কৃষিকার্ডে অনেক তথ্যবিভ্রাট থাকতে পারে, তবে কঠোরভাবে মনিটরিং করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) এস কে মনিরুল হাসান বলেন, কৃষকের অ্যাপ এর মাধ্যমে ধান ক্রয় একেবারেই নতুন। এ প্রক্রিয়ার কারণে দালাল বা মধ্যসত্ত্বাভোগী এমনকি সংশ্লিষ্ট কোনো অসাধু কর্মকর্তা বা ব্যক্তি ইচ্ছা থাকলেও অনিয়মের সুযোগ পাবে না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম বলেন, নিবন্ধন শেষ হলে অনলাইনের মাধ্যমে আমার দপ্তর থেকে লটারী করে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হবে।