নড়াইলের মেয়ে যশোরে পাষন্ড স্বামীর নির্যাতনে আত্মহত্যা

201

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের মেয়ে লাইলাতুল জান্নাত (৩৪) যশোরের চৌগাছায় স্বামীর বাড়িতে
নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর ইশরাক (১২) ও ইশান (২ মাস) নামে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের এনামুল কবির ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা অ্যাডভোকেট তাইয়েব আলী আসাদ বাদি হয়ে চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর মেয়েকে জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইফতারের পর লাইলাতুল জান্নাতকে তাঁর স্বামী এনামুল কবির ইসমাইল হোসেন ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যেদের সহায়তায় মুখে বিষ ঢেলে দেয়া হয়।
এতে অবস্থার বেগতিক দেখে রাতেই তাঁকে প্রথমে চৌগাছা হাসপাতালে নিলে সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে সেখান থেকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অীধকতর অবনতি হলে গতকাল শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

লাইলাতুল জান্নাত নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা গ্রামের অ্যাডভোকেট তাইয়েব আলীর মেয়ে।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের বাবা অ্যাডভোকেট তাইয়েব আলী জানান, ইসমাইল প্রায়ই তার মেয়েকে নির্যাতন করতো। এর আগেও তিনি একাধিকবার আমার মেয়েকে নির্যাতন করেছে। তিনি পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে।

পাবিরবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে ইসমাইল ও জান্নাতের বিবাহ হয়। বিয়ের পর ইসমাইল স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরে সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে গেলে গ্রামে চলে আসেন। তাদের বিবাহের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। জান্নাত শহরের মেয়ে তাই শহরে থাকতেই তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন। ইসমাইল বিয়ের পর তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে গ্রামে চলে আসেন এবং প্রায় স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এসব নিয়ে স্ত্রীর সাথে গোলমাল লেগেই থাকতো।

তাদের বড় ছেলে ইমরান হোসেন ইশরাকের জন্মের পর জান্নাত পারিবারিক কোন্দলের কারণে নড়াইল বাবার বাড়িতে গিয়ে বেশ কয়েক বছর অবস্থান করেন। সে সময় জান্নাতের বাবা ইসমাইলের নামে দুই থেকে তিনটি মামলা করেন। তিন থেকে চার বছর মামলা চলার পর সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে আবার তারা ঘর-সংসার শুরু করেন। দুইমাস আগে তাদের আরেকটি ছেলের জন্ম হয়। সম্প্রতি তাদের দাম্পত্য কলহ প্রকাশ্যে রুপ নেয়।