‘কিট নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে পারব না’ -ডা. জাফরুল্লাহ

82

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি (কোভিড-১৯)করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বল্পমূল্যে ও অল্প সময়ে করোনা শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবনের কথা প্রথম জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সেই কিট ইতোমধ্যে করোনা রোগীদের ওপর পরীক্ষা করে ভালো ফলাফলও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ আনুষ্ঠানিকভাবে কিটটি বাজারজাত কিংবা ব্যবহার শুরু করতে গেলে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন লাগবে।

এদিকে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো র‌্যাপিড টেস্ট কিট অনুমোদন দেয়নি এবং বাংলাদেশ সরকারও র‌্যাপিড টেস্ট ব্যবহারের অনুমোদন দিতে চাচ্ছে না।

এমনই প্রেক্ষাপটে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ বলছেন, তিনি কিট নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে পারবেন না। কিট বিষয়ে জাতীয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর যা করেছে তার বিচার ভার দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী আজ বুধবার বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর যদি বলে দিতো তাহলেই বিএসএমএমইউ হাসপাতা তাদের কিট যাচাইয়ের জন্য গ্রহণ করতো। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর লিখিত দেয়নি বলেই বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিট গ্রহণ করতে পারছে না। ‘আমি এ কিট নিয়ে এখন দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে পারব না।’

এদিকে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক চিকিৎসক জানান, তাদের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ শনাক্তের কিট পরীক্ষা করে দেখবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ বিষয়ে বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কাজ করে সরকারের সঙ্গে। সুতরাং সরকার না নিলে তারা কিট গ্রহণ করবে না। এর আগে সরকার নেয়নি বলেই তারাও নেয়নি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিট নিতে চাইলে সরকারকে অনুরোধ করতে হবে। সরকার চাইলেই তারা কিট নিতে পারবে।

অন্যদিকে, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তাদের কিটের সক্ষমতা যাচাই করবে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। এ জন্য তারা ৮০০ কিট চেয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সিডিসিকে কিট দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারও (বিএমআরসি) কিটের সক্ষমতা পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য বিএমআরসিতে জমা দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের উদ্ভাবিত কিটের নমুনা সরকারের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। কিন্তু সেখানে সরকারের ঔষধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ যায়নি। এ নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে সরকারের উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন ডা. জাফরুল্লাহ। ওই অনুষ্ঠানেই কিটের নমুনা সংগ্রহ করে সিডিসির প্রতিনিধি।

ডা. জাফরুল্লাহর অভিযোগের বিষয়ে পরে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সেখানে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি এবং সরকারও এ ধরনের কিট অনুমোদন দিতে চাচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহর অন্যান্য অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়, তারা আগেও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে সহযোগিতা করেছে এবং এখনো সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছে।

এ বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, কোনো কন্ট্রাক্ট রিসার্চ ফার্মের (সিআরও) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কিটের প্রটোকল তৈরি করবে না। বরং এই পদ্ধতিতে লেনদেন করা যেতে পারে।

তবে তিনি বলছেন, আইসিডিডিআরবি তাদের কিটের সক্ষমতা যাচাই করলে তাতে আপত্তি নেই।