মাশরাফীর ক্যারিসমেটিক উদ্যোগ, ডক্টরস সেফটি চেম্বার স্থাপন

86

নড়াইল কণ্ঠ : কিংবদন্তি অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা বৈশ্বিক মহামারি (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাস সংক্রমন মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসুরক্ষায় ইতিমধ্যে কয়েকটি ইনভেটিভ উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য জীবাণুনাশক চেম্বর স্থাপন, ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম পরিচালনা, ডক্টরস, নার্স, মিডিয়াকর্মীদের জন্য পিপিই সরবরাহ ও বাস্তবায়ন করেছেন।

এবার ডক্টরস-রোগীর নিরাপত্তার কথা ভেবে ব্যক্তিগত অর্থায়নে কিংবদন্তি অধিনায়ক নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার ক্যারিসমেটিক উদ্ভাবন ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার স্থাপন’ করলেন নড়াইল সদর হাসপাতাল চত্বরে।
গতকাল বুধবার(২২ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সদর হাসপাতালেল তত্বাবধায়ক ডাঃ আব্দুস শাকুর, মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার পিতা গোলঅম মোর্ত্তজার স্বপ্ন, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আ,ফ,ম মশিউর রহমান বাবু, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইলিয়াছ হোসেন, মাশরাফীর বিন মোর্ত্তজার ছোটভাই মোরসালিন মোর্ত্তজা সিজার প্রমূখ।

ডক্টরস সেফটি চেম্বার কি এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা গেছে, বৈশ্বিক মহামারি (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাসের ছোঁবল থেকে হাসপাতালের ডক্টরস, নার্স, হেলথ টেকনিশিয়ান এবং সেবা নিতে আসা রোগীদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে এ উদ্যোগ।

জানাগেছে এর কার্যক্রম পদ্ধতি সম্পর্কে, ডক্টরস সেফটি চেম্বারটি সম্পূর্ণ কাঁচে ঘেরা। এর মধ্যে অবস্থান করবেন চিকিৎসক। যিনি সামনের দুটি ছিদ্র দিয়ে গ্লাভস পরিহিত হাত বের করে রোগীর রক্তচাপ নির্ণয় করবেন এবং চেম্বারে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত থার্মাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে রোগীর গায়ের তাপমাত্রা দেখবেন। থার্মাল ডিটেক্টর স্থাপনের স্থানটি ছিদ্রমুক্ত, ফলে রোগীর হাঁচি-কাশি থেকে দায়িত্বরত চিকিৎসক সুরক্ষিত থাকবেন। থার্মাল ডিটেক্টরে কোন রোগীর গায়ের তাপমাত্রা করোনা উপসর্গের সাথে মিলে গেলে তাকে করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হবে এবং অন্য রোগীদের সাধারণ সেবা দিতে জরুরী বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, হাত/ পা ভাঙা বা মারাত্মক জখম হয়ে আসা রোগী ব্যতীত অন্য সকল রোগী হাসপাতাল গেট দিয়ে প্রবেশ করে মূল ভবনে প্রবেশের আগেই এই সেবা নিয়ে হাসপাতালে ঢুকবেন।

এর ফলে করোনা উপসর্গ নিয়ে কোন রোগী হাসপাতালে প্রবেশ করে সাধারণ রোগী, চিকিৎসক বা সেবিকাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারবেন না। এস কারণে আগে থেকেই জ্বরে আক্রান্ত রোগী বা করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের আলাদা করে করোনা ওয়ার্ডে রাখা সম্ভব হবে। ডক্টরস সেফটি চেম্বারে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে চেম্বারের ভেতরে থাকা চিকিৎসক ও বাইরে থাকা রোগীর মধ্যে কথোপকথন হবে।

এই ডক্টরস সেফটি চেম্বারটি কিভাবে মনিটরিং হবে সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ জানান, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করবেন নড়াইল সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়কের নেতৃত্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডক্টরস সেফটি চেম্বারের সেবা পৌঁছে দিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন বঙ্গবন্ধু স্কোয়াড স্বেচ্ছাসেবক টিম।

রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে দেশে ও বিদেশে নিজের অজান্তেই অনেক চিকিৎসকগণসহ হাসপাতালের সেবা প্রদানকারীদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার প্রধান এই চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক, সেবিকাসহ সংশ্লিষ্টরা করোনায় আক্রান্ত হলে আমাদের জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা পেতে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও হাসপাতাল পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে এই ক্যারিসমেটিক পরিকল্পনা করেন।