কালিয়ার গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত!

118

নড়াইল কণ্ঠ : পাটেশ্বরী গুচ্ছগ্রাম। গুচ্ছগ্রামের রাহিলা বেগম, স্বামী মারা যাবার পর থেকে পরের বাড়ির জ্বীয়ের কাজ করে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ৩ জনের সংসার চলে। করোনার এই পরিস্থিতিতে পরের বাড়িতে কাজেই রাখছেন না গ্রামের লোকেরা। গেল ১০ দিন তাঁর পরিবারের হাড়িতে চাল উঠেনি।

আরেকজন এ গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী ইলিয়াস আলী। কোন রকম দিনমজুরী করে সংসার চালায়। তাঁর পরিবারের একমাত্র ছেলে সেও প্রতিবন্ধী। ৪ সদস্যের পরিবার নিয়ে প্রায় একমাস প্রায় না খেয়েই দিন চালাচ্ছে। এই অসহায় পরিবার প্রতিদিনই প্রতিক্ষায় থাকেন কবে আসবে সরকারি ত্রাণ।

একইভাবে করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন নড়াইলের কালিয়া পাঁচগ্রাম ইউনিয়নে বিলের মাঝে পাটেশ্বরী গুচ্ছগ্রামসহ অন্তত ৫ টি গুচ্ছগ্রামের হাজারো বাসিন্দা।

এখানকার বাসিন্দা জয়নব বিবি জানান, একবার মাত্র ৫ কেজি চাল পেয়েছি আর কিছুই পাইনি, শুনেছি সরকার গরীব মানুষের জন্য চাল ডাল, তেল দিচ্ছে। আমরা সহায় সম্বলহীন মানুষ এখানে থাকি। গত একমাস কোন কাজ নাই। গ্রামে এর ওর বাড়ি থেকে যা পাচ্ছি তাই খাই।

গতকাল শনিবার এসব গুচ্ছগ্রামে গেলে ত্রাণের জন্য ছুটে আসেন না খাওয়াা মানুষগুলো। এখানে বসবাসকরা ছোট শিশুদের জন্য ঘরে দুধ নেই, একবাটি দুধের মধ্যে কয়েক বাটি পানি দিয়ে কোন রকমে দুধ খাওয়াচ্ছেন গরীব মায়েরা। অধিকাংশ বাড়ির চুলায় আগুণ ধরছে না। কমেলা বেগম নামের এক মাঝ বয়সী নারী কাঁদতে কাঁদতে জানান, প্রায় ১০ দিন হয়ে গেল চুলায় খাবার কসাতে পারিনি।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ৩০ পরিবারের এই গুচ্ছগ্রামে অন্ততঃ দেড়শ মানুষের বসবাস। এদর মধ্যে কেউ বাজারে চটপটি বিক্রেতা, কেউ ট্রলারে কাজ করে, আবার কেউবা ভ্যান চালায়। করোনাভাইরাসের কারনে গত একমাস যাবত এসব লোকদের নেই কোন কাজ, নেই ত্রাণও। স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিপক্ষে ভোট দেয়ায় এই গুচ্ছগ্রামে সরকারি কোন ত্রাণ পৌঁছেনি।

একই রকম অবস্থা ইউনিয়নের যাদবপুর, মহিষখোলা, পাটেশ্বরী, সাতবাড়িয়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান সহ সরকারী কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দমতো লোকদেরই সরকারী ত্রাণ দেয়া হয়েছে, দরিদ্রদের হিসাব না করেই সরকারী ত্রাণে একধরনের স্বজনপ্রীতি করা হচ্ছে।

যাদবপুর চৌরাস্তা এলাকায় ভ্যান চালায় অন্ততঃ ৩’শ জন। এদের কারো কাছে সরকারী ত্রাণ পৌঁছেনি। ভ্যানচালক হাফিজুর বিশ্বাস, আনোয়ার বিশ্বাস, রফি শেখ, ইমরুল সহ কয়েকজন জানান, একবার মাত্র ১০ কেজি চাল দিয়েছে তাও মেপে দেখেছি ৭ কেজি হয়েছে। ভ্যানচালক ইমরুল বলেন,চেয়ারম্যান জহুর তার নিজের আতœীয় স্বজনদের চাল, তেল, ডাল, সাবান দিয়েছে।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ হাজার পরিবারে এই ইউনিয়নটিতে সরকারীভাবে একবার মাত্র একশ প্যাকেট ত্রাণ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৫কেজি চাল, ২কেজি আলু, আধা কেজি ডাল, একলিটার তেল ও সাবান ছিলো। এই তালিকার মধ্যে গুচ্ছগ্রামের হতদরিদ্রদের কারো নাম ছিলো না।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.নাজমুল হুদা বলেন, কয়েকটি গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন প্রকল্পের জন্য শনিবারই (১৮ এপ্রিল) বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাটেশ্বরী গুচ্ছগ্রামে চেয়ারম্যান দিতে না চাইলেও আমি উনাকে বলেছি মাল নিয়ে বিতরণের জন্য।