‘ঘরেই থাকুন,আতঙ্কিত হবেন না, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ে সাহায্য করুন’ -প্রধানমন্ত্রী

92

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, সেই সাথে তিনি এ সংকটময় সময়ে মানুষজনকে তাদের দায়িত্ব হিসেবে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করে বিজয়ী হয়েছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনার দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হব, ইনশাআল্লাহ।’
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন একযোগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচার করে। সেই সাথে বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলোতে তা প্রচার করা হয়।তিনি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের মানুষকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং ভিড় এড়িয়ে থাকার তাগিদ দেন।
শেখ হাসিনা তার ২৩ মিনিটের ভাষণে বলেন, এ মুহূর্তে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো মানুষকে প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।
তিনি উল্লেখ করেন যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্নভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে প্যানডামিক বা মহামারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
‘ধনী বা দরিদ্র, উন্নত বা উন্নয়নশীল, ছোট বা বড়- সব দেশই আজ কমবেশি নভেল করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশও এ সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়,’ জানিয়ে তিনি জনসমাগম হয় এমন ধরনের অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে সবাইকে অনুরোধ জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জানেন যে মানুষ এক ধরনের আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ‘আমি সকলের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছি। কিন্তু এ সংকটময় সময়ে আমাদের ধৈর্য্য এবং সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।’
যারা করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশ থেকে ফিরেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৪ দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশি, এলাকাবাসী এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।’