দ্রুত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান ও তদন্ত শীর্ষক দুদকের কর্মশালা

89

নড়াইল কণ্ঠ : দ্রুত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।

এ সময় তিনি আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান ও তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত দাখিলের জন্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এক একজন ইনকুয়ারি অফিসার , এক একজন ইনভেষ্টিগেশন অফিসার তারা তাদের মতো করে রিপোর্ট দাখির করেন। কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না। একটা মানুষ যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলো। তিনি বাস্তবে সরকারি চাকুরিতে কখন প্রবেশ করেছেন। প্রবেশ যখন তিনি করেন সেই সময় তার টাকা-পয়সা কত কি ছিলো। এই দিয়ে কাজ শুরু করতে পারি। তার পর কে কোন পদে আসলেন, কত তার স্কেল ছিলো, মাসে কত টাকা বেতন পাতেন, তার মাসে কত টাকা খরচ হতো। এই গুলো সহজভাবেই পাওয়া যায়।’ ‘এরপর তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের সময় তার শশুর বাড়ির অবস্থাটা কি ছিলো তার খোঁজ-খবর নেয়া দরকার। আমরা আমাদের সরকারি কর্মকর্তা যারা তারা অধিকাংশ ভালো মানুষ, অধিকাংশই সৎ। কিন্তু যারা প্রকৃতপক্ষে অসৎ কাজ করেন, দুর্নীতি করেন তারা বিভিন্নভাবে সে তার দুর্নীতির টাকাকে হালাল করার জন্য, অবৈধতা দেখানোর জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা তদ্বির করেন।’

এ কর্মশালায় ৭জন মহাপরিচালক, পরিচালক ও উপ-পরিচালকসহ মোট ৩১জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। এরমধ্যে মহাপরিচালক ৭জন হলেন, মহাপরিচালক (লিগ্যাল ও প্রসিকিউশন) মোঃ মফিজুর রহমান ভূঞা, মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) আবদুন নূর মুহম্মদ আল ফিরোজ, মহাপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মোঃ রেজানুর রহমান, মহাপরিচালক (প্রশাসন, সংস্থাপন ও অর্থ) মো. জহির রায়হান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান, মহাপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত – ২) মোঃ জাকির হোসেন, মহাপরিচালক (আইসিটি ও প্রশিক্ষণ) এ কে এম সোহেল কর্মশালায় অংশ নেন।

দুদক অনুসন্ধান ও তদন্ত- ১ সম্পর্কে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন তার সামগ্রিক কার্যক্রম ০৬ (ছয়) টি অনুবিভাগের মাধ্যমে পরিচালনা করে। অনুসন্ধান ও তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুবিভাগ। এই অনুবিভাগের অধীনে অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ এবং অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ নামে দুটি শাখা রয়েছে। উক্ত ০২ (দুই) টি শাখার মাধ্যমে অনুবিভাগের আওতাধীন ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল মোট ০৬ টি বিভাগীয় কার্যালয় ও ২২ (বাইশ) টি সমন্বিত জেলা কার্যালয় এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুর্নীতির অপরাধসমূহের বিচার কার্য প্রধানত নির্ভর করে অনুসন্ধানের উপর। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ অনুসন্ধান সম্পর্কে দুদককে বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করেছে (ধারা ১৯ ও ২০)। সেজন্য, অনুসন্ধান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য দুদকের এই অনুবিভাগটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

এখানে উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালকের নেতৃত্বে এই অনুবিভাগ টি নিম্নোক্ত বিষয়ের উপর তদন্ত ও অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত: ভূমি, ভূমি রাজস্ব ও বন্ধক; ঘুষ (অর্থ, সম্পদ ও পরিষেবা); স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অবৈধ উপায়ে অর্জন; নির্মাণ কাজ ও যোগাযোগ খাতের দুর্নীতি ; উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বেসরকারি সংস্থার দুর্নীতি; শুল্ক ও রাজস্ব, ব্যবসায়ী/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ; সরকারি ক্রয়/বিক্রয়, লাইসেন্স ইস্যু করা; শপথ ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার শীর্ষক অপরাধ; এবং অন্যান্য, যেমন, দুদক আইন, ২০০৪-এর তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহ।

অভিযোগ প্রাপ্তির পর কমিশন নিম্নের বিষয়গুলো বিবেচনা নিয়ে থাকে:- অভিযোগটি কমিশনের তফসিলভূক্ত অপরাধ কি-না; অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক কি-না;অপরাধ সংঘটনের সময়কাল উল্লেখ করা হয়েছে কি-না;অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্টতা; অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের পূর্নাংগ ঠিকানা উল্লেখ আছে কি-না;অভিযোগের গুরুত্ব ও মাত্রা;অভিযোগের আর্থিক সংশ্লেষের পরিমাণ;অভিযোগকারীর নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকনা উল্লেখ আছে কি-না;অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন পর্যালোচনা করে দেখা হয় যাতে অভিযোগটি আদালতে প্রমাণযোগ্য কি-না।