লোহাগড়ায় নতুন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী উপকারভোগী নির্বাচন

10

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়ায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহিত এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী নতুন ভাতাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে। গত সোমবার (৩ ফ্রেব্রুয়ারি) লোহাগড়া পৌর এলাকার নতুন ভাতাভোগী বাছাই হয় এ পদ্ধতিতে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ইতিমধ্যে এভাবে বছাই করা হয়েছে।
গত সোমবার (৩ ফ্রেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব ভাতা পেতে কয়েকশো নারী-পুরুষ জড়ো হয়েছেন। সেখানে ওয়ার্ডভিত্তিক তাঁদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়েছে। পৌর এলাকার এসব বাসিন্দারা তাঁদের ভাতা প্রাপ্তির জন্য তালিকাভুক্ত করতে নানা আকুতি জানাচ্ছেন। উপজেলা সামাজসেবা কর্মকর্তা শামীম রেজাসহ স্থানীয় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।
উপজেলা সামাজ সেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এসব ভাতা দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ এসব ভাতাভোগী বাছাই করে থাকে। এরপর উপজেলা বাছাই কমিটি তা অনুমোদন দেয়। এ কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সদস্যসচিব উপজেলা সামাজসেবা কর্মকর্তা। অনেক ক্ষেত্রে অনৈতিকভাবে এ ভাতাভোগী বাছাই করা হয়। এতে যোগ্য ব্যক্তি সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে গত বছর ৫ ডিসেম্বর সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নূরুল কবির নতুন উপকারভোগী বাছাই করতে উন্মুক্ত পদ্ধতির এই নির্দেশনা জারি করেন।
সামাজ সেবা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ জন নতুন ভাতাভোগী তালিকাভুক্ত করতে বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতা পাবেন ৮৩৩ জন, বিধবা ও স্বামী নিগৃহিত ভাতা পাবেন ৯৩৩ জন এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন ১ হাজার ৭৯৩ জন। ইতিমধ্যে কাশিপুর, নলদী, জয়পুর, লোহাগড়া, ইতনা, দিঘলিয়া ও কোটাকোল ইউনিয়নে গিয়ে নতুন ভাতাভোগী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ইউনিয়নে ৫০ থেকে ৭০ জন নতুন বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগী তালিকাভুক্ত করতে বরাদ্দপত্র এসেছে। এ ছাড়া অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন অধিকাংশ ইউনিয়নে ১০০ থেকে ২০০ জন। প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রার্থীর চেয়ে বরাদ্দ বেশি আছে, তাই সকল প্রতিবন্ধীই ভাতা পাবেন। কিন্তু ওই দুই প্রকার ভাতাপ্রার্থী বরাদ্দের চেয়ে ৫-৬ গুণ বেশি উপস্থিত হচ্ছেন। বর্তমানে উপজেলায় মোট ৮ হাজার ৪৮৯ জন বয়স্ক ভাতা, ৪ হাজার ৪৯১ জন বিধবা ও স্বামী নিগৃহিত ভাতা এবং ২ হাজার ৫০ প্রতিবন্ধীই ভাতা পাচ্ছেন।
চোরখালী গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ আমির শেখ (৮১) লাইনে দাঁড়িয়ে কাপছিলেন, আর বলছিলেন, ‘দ্বারে দ্বারে কতজনের কাছে গিছি, কেউ বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেই নাই। আজ মাইকিং শুনে আইছি। বড় স্যারের সাথে কথা হইছে। এবার ভাতা মনে অয় পাবানি।’
উপজেলা সামাজসেবা কর্মকর্তা শামিম রেজা বলেন, ‘স্বচ্ছভাবে যোগ্য ব্যক্তিকে ভাতা দিতে অধিদপ্তরের এ নির্দেশনা পালন করা হচ্ছে। এর জন্য ব্যাপকভাবে মাইকিং করে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে উপস্থিত সবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ভাতা এবার সবার জন্য বরাদ্দ হবে। তবে বয়স্ক এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহিত ভাতা বরাদ্দ অনুযায়ী সব আবেদনকারীকে দেওয়া সম্ভব হবে না। উপস্থিত সবার অপেক্ষামাণ তালিকা করা হবে। পর্যায়ক্রমে এ তালিকা থেকে ভাতা দেওয়া হবে।’
উপজেলা চেয়ারম্যান শিকাদর আব্দুল হান্নান বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এভাবে বাছাই করা হচ্ছে। এটি নেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা। কাজটি সুন্দর হচ্ছে, পদ্ধতিটি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।’