অ্যাথলেটিকসে টানা সাফল্য ধরে রেখেছে লোহাগড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয়

19

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় শীতকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটিকসে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য ধরে রেখেছে। টানা গত ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়টি এ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ইভেন্টে শীর্ষস্থান দখল করেছে। এ ছাড়া অধিকাংশ বছর সর্বোচ্চসংখ্যক পুরস্কার পাওয়ার সাফল্য অর্জন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতি প্রতিবছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এ বছর ১৭ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৪৯তম জাতীয় চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা হয়। ১৭ জানুয়ারি এ প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বাছাই হয়ে চূড়ান্ত এ প্রতিযোগিতা হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের সবচেয়ে বড় এ প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটিকসে এ বছর বালক ও বালিকা বিভাগে দৌড়, রিলে দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ, গোলক নিক্ষেপ, বর্শা নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, লাফ-ধাপ-ঝাপ ও দড়ি লাফসহ ৪৩টি ইভেন্ট ছিল। ১২৯টি পুরস্কারের মধ্যে লোহাগড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় এ বছর পেয়েছে ১২টি পুরস্কার। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ১টি ব্রোঞ্জ।
লোহাগড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের এ বছর পদক বিজয়ীরা হলো রিফাতুল ইসলাম, সৌরভ বিশ্বাস, ইসমাইল, সঞ্চিতা কর্মকর, অনন্যা বিশ্বাস ও কাকলি কর্মকর। সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণ করেন কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ আ.ক.ম বাহাউদ্দিন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরী, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুস ছালাম ও সচিব নূর মোহাম্মদ, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান প্রমুখ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটিকসের বিভিন্ন ইভেন্টে স্বর্ণপদকসহ অধিকাংশ বছর সর্বোচ্চসংখ্যক পুরস্কার পেয়েছে লোহাগড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। ২০১৯ সালে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৮টি স্বর্ণসহ ১৫টি পদক পায়। ২০১৮ সালে পায় ১৮টি পদক, যার ৯টি স্বর্ণ। ২০১৭ সালে পায় ১৪টি পদক, যার ৬টি স্বর্ণ। ২০১৬ সালে ১০টি স্বর্ণসহ ১৭টি পদক পায়। ২০১৫ সালে ২৩টি পদক পায়, যার ১৩টি স্বর্ণ। ২০১৪ সালে ৮টি স্বর্ণসহ ১৬টি পদক পায়। ২০১৩ সালে ১০টি স্বর্ণসহ ২৬টি ও ২০১২ সালে ১৪টি স্বর্ণসহ ২৬টি পদক পায়। ২০১১ সালে পেয়েছে ৩৪টি, যার ১৭টি ছিল স্বর্ণ। ২০১০ সালে ২৫টির মধ্যে ১৩টি স্বর্ণ ও ২০০৯ সালে ৩৯টি পদক পায়, যার ১৯টি স্বর্ণ।
এ প্রসঙ্গে লোহাগড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান বলেন, এ সাফল্যের পেছনে রয়েছেন এ বিদ্যালয়ের খ-কালীন ক্রীড়া শিক্ষক দিলীপ চক্রবর্তী। তিনি অধিকাংশ অনগ্রসর ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের খুঁজে খুঁজে অ্যাথলেটিকসের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের অ্যাথলেটিকসের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তিনি তাদের প্রস্তুত করিয়ে থাকেন। এসব সাফল্যের জন্য জাতীয় স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন। গত বছর অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসের প্রতিযোগিতায় তাঁকে সেরা সংগঠকের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দিলীপ চক্রবর্তী এমপিওভুক্ত শিক্ষক নন। স্কুল থেকে যে সামান্য টাকা দেওয়া হয়, তা দিয়ে তার সংসার চলে না। তাঁকে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার হাত বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি অ্যাথলেট তৈরির জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি প্রশিক্ষণ দরকার।
এ বছর স্বর্ণ পদক বিজয়ী সঞ্চিতা কর্মকর, অনন্যা বিশ্বাস ও কাকলি কর্মকর বলে, দিলীপ স্যার অনন্য একজন ক্রীড়া সংগঠক। তাঁর দেওয়া প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ পেয়ে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর একের পর এক সাফল্য ধরে রেখেছে। তিনি এর জন্য আমাদের পেছনে ছায়ার মতো লেগে থাকেন এবং সব প্রতিযোগিতাস্থলে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যান।
জানতে চাইলে দিলীপ চক্রবর্তী (৫৬) বলেন, ‘নিয়মিত মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করলেই সফল হওয়া সম্ভব। উৎসাহীদের খুঁজে খুঁজে বের করে উৎসাহ দিয়ে যেতে হবে, তাহলেই তারা সফল হবে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অসংখ্য অ্যাথলেট তৈরি করেছি। তার অনেকেই এখন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত খেলোয়াড়।’