আইনজীবী সমিতির নির্বাচন : বুধ-বৃহস্পতি ভোটগ্রহণ

165

নড়াইল কণ্ঠ : এশিয়ার বৃহত্তম বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার (২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে।
এ দুদিন সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিয়ে দুপুর ২টায় আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

এবারের নির্বাচনে (২০১৬-২০১৭ বর্ষ) বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের মধ্যে মূল লড়াই হলেও সবুজ প্যানেলের অধীনে বিভিন্ন পদে আরও ১০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হোসেন আলী খান হাসানও আছেন ভোটের লড়াইয়ে।

সব মিলিয়ে ২৫টি পদে মোট ৬৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১০টি সম্পাদকীয় পদের বিপরীতে ২৪ জন এবং ১৫টি সদস্য পদের বিপরীতে ৩৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে ১৫ হাজার ৫০ জন ভোটার (আইনজীবী) তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গতবারের চেয়ে এবারে ভোটার সংখ্যা ৩২২ জন কম।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা, বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল ও দল নিরপেক্ষ সবুজ প্যানেলের ব্যানারে প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সাদা ও নীল দলের মধ্যে। অবশ্য নির্বাচনের আগেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্যানেল দুটি তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন।

সাদা প্যানেলে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আয়ুবুর রহমান নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে নীল প্যানেলের সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু।

সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী গত ২টি নির্বাচনে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গতবার বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়। সেজন্য এবারের নির্বাচনে সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী সাইদুর রহমান মানিকের কর্মী ও সমর্থকদের প্রচারণার অন্যতম কৌশলী বক্তব্য ছিল, “স্যার থার্ড টাইম”।

উল্লেখ্য, গত ২০১৪-১৫ কার্যবর্ষের নির্বাচনে সাদা প্যানেল ২৫টি পদের মধ্যে শুধুমাত্র ৬টি সদস্য পদে এবং ২০১৫-১৬ কার্যবর্ষের নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ ৫টি পদে জয়ী হয়। অন্যদিকে গত ২০১৪-১৫ কার্যবর্ষের নির্বাচনে নীল প্যানেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৯টি পদে এবং ২০১৫-১৬ কার্যবর্ষের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২০টি পদেই জায়লাভ করেন।

২০১৬-১৭ কার্যবর্ষের সম্পাদকীয় পদে সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি পদে আবু বারেক ফরহাদ, ট্রেজারার পদে মো. হাসিবুর রহমান দিদার, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুস সালাম খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শাহাদাত হোসেন ভুইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে আলী আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে লাকী আক্তার ফ্লোরা, দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল হাই মামুন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে প্রহলাদ চন্দ্র সাহা পলাশ ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে মো. বাহারুল আলম বাহার।

অন্যদিকে সম্পাদকীয় পদের নীল প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আফরোজা বেগম শেলী, সহ-সভাপতি পদে কাজী মো. আবুল বারিক, ট্রেজারার পদে আবু বক্কর সিদ্দিকী, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদের সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সারোয়ার কায়ছার রাহাত, লাইব্রেরি পদে মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শাহনাজ বেগম শিরীন, দপ্তর সম্পাদক পদের মো. আফানুর রহমান রুবেল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শফিকুল ইসলাম ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে মোহাম্মাদ শাখাওয়াত উল্লাহ চৌধুরী।

সাদা প্যানেলের ১৫টি সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল আহসান মামুন, ইমারত হোসেন বাচ্চু, হাজেরা বেগম আজরা, মোহাম্মাদ আবু সাঈদ সিদ্দিক টিপু, নাসিম জাহান রুবি, নুর জাহান আক্তার পারভীন, মরিয়ম বেগম তুলি, মো. আলাউদ্দিন খান, সাহিদা পারভীন নদী, মো. বিল্লাল হোসেন লিজন, মোহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম তালুকদার, তাইবুর রহমান তুহিন, মোহাম্মাদ সাইফুজ্জামান টিপু ও মোহাম্মাদ নুর হোসেইন।

অন্যদিকে সদস্য পদে নীল প্যানেলে মনোনয়ন পেয়েছেন- অ্যাডভোকেট আজমেরী আহমেদ চৈতি, মো. আব্দুল মোমেন খান মামুন, মো. আনোয়ার পারভেজ কাঞ্চন, মো. শহিদুল্লাহ, মো. শাহীন হোসেন, মো. শওকত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, মোহাম্মাদ রোকনুজ্জামান সুজা, মোস্তফা সারওয়ার মুরাদ, মোস্তরী আক্তার নুপুর, মোসা. জেবুননেছা খানম জীবন, পান্না চৌধুরী, শাহনাজ পারভীন, সৈয়দ আকতারুল ইসলাম আক্তার ও সৈয়দ মোহাম্মাদ মাইনুল হোসেইন অপু।

এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার করেছেন। প্রায় মাসাধিক কাল আগে থেকেই সাদা ও নীল প্যানেলের প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছেন। চেম্বারে চেম্বারে, নেতৃস্থানীয়দের বাসাবাড়িতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ ছাড়াও লিফলেট, কার্ড, এসএমএস, ভয়েস এসএমএম, ফেসবুক, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারসহ মোবাইলে ফোন করেও জোর প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। এছাড়াও নীল প্যানেলের সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচারকার্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তার সাইটটি হচ্ছে http://advnazrul.com/।

এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট মো. শাহ্ আলম খান। এছাড়া কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. সামিউল হক (সামু), সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুর রহমান, সাবেক কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. মহসীন, সাবেক লাইব্রেরি সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আলী হায়দার কিরন, সাবেক লাইব্রেরি সম্পাদক অ্যাডভোকেট পরিমল চন্দ্র দাস (পি. সি. দাস), অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম শেখ, অ্যাডভেঅকেট মো. মাসুম বিল্লাহ, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মো. মকবুল হোসেন, বর্তমান সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও বর্তমান লাইব্রেরি সম্পাদক মো. মাজেদুর রহমান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. শাহ্ আলম খান বাংলামেইলকে জানান, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’