বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সন্দেহভাজনরা অবসরে যাচ্ছেন

76

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় দেশি-বিদেশি অপরাধীদের শনাক্ত করা গেলেও চার বছরেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি। বিদেশী অপরাধীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় অভিযোগপত্র দেয়া যাচ্ছে না বলে জানায় সিআইডি।
এদিকে চাকরির বয়স পূর্ণ হওয়ায় বহুল আলোচিত এই চুরির ঘটনায় দেশীয় সন্দেহভাজনদের অনেকেই এখন চলে যাচ্ছেন অবসরে। বণিক বার্তা’র এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক অব নিউইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলংকায়। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের বিভিন্ন ক্যাসিনোয় যায়। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত ফেরত আনা গেছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। পাওয়া যায়নি বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।
এরপর ওই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। পরবর্তী সময়ে আলামত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে চুরির সঙ্গে দুই ডজন বিদেশির সম্পৃক্ততা পায় সংস্থাটি। বিদেশি অপরাধীদের পাশাপাশি দেশি অপরাধীদেরও যোগসাজশের তথ্য উঠে আসে তদন্তে।
পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ১২০ জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং প্রাথমিক আলামত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা খুঁজে পান তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ওই সব কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করে সংস্থাটি। তবে এ আট কর্মকর্তার মধ্যে একজন এর মধ্যেই অবসরে গেছেন। বাকি আরো কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন অবসরে যাওয়ার অপেক্ষায়।
এদিকে সন্দেহভাজন বিদেশিদের স্থায়ী ঠিকানা চেয়ে তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ অপরাধীদের তথ্য সরবরাহ করলেও চীন, ফিলিপাইন ও শ্রীলংকার কাছ থেকে ওই তিন দেশের অপরাধীদের তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি চুরির প্রক্রিয়ায় পাঁচ বিদেশি প্রতিষ্ঠানেরও সম্পৃক্ততা মিলেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো মামলার অভিযোগপত্র দিতে হলে অভিযুক্তের যাচাইকৃত পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উল্লেখ করতে হয়। সে নিয়ম মেনে কয়েকটি দেশের কাছে অপরাধীদের যাচাইকৃত পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা চাওয়া হয়। কিন্তু চীন, ফিলিপাইন ও শ্রীলংকা এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নিজ নিজ নাগরিকদের তথ্য সরবরাহ করেনি। আর বিদেশি অপরাধীদের যাচাইকৃত তথ্য ছাড়া পূর্ণাঙ্গ এবং মানসম্পন্ন অভিযোগপত্র দেয়া অসম্ভব।
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় ফিলিপাইনের সঙ্গে দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বা সচিব পর্যায়ের বৈঠকে চুরি যাওয়া অর্থ ও অপরাধীদের তথ্য প্রদানের সহযোগিতার আশ্বাস দেন দেশটির প্রতিনিধিরা। দুদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব। বৈঠক শেষে তিনি জানান, ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের কাছে ওই দেশের অপরাধীদের এ তথ্য জমা আছে। তাদের অনুমতি সাপেক্ষে ফিলিপাইন এটি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবে।
সিআইডির মুখপাত্র ও অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (ইকোনমিক ক্রাইম) মোস্তফা কামাল বলেন, রিজার্ভ চুরির মামলায় আন্তঃদেশীয় অপরাধীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের তথ্য চেয়ে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কিছু দেশ তা প্রদান করছে না। চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরপরও যদি বিদেশিদের তথ্য না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।