ড. ইউনূস ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন

71

নড়াইল কণ্ঠ : গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলায় জামিন পেয়েছেন। রবিবার (২৬ জানুয়ারি)দুপুরে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলামের আদালতে ৫ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে জামিন পান তিনি।
এর আগে সকালে একই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন এ নোবেল বিজয়ী। পরে আদলতের বিচারক রহিবুল ইসলাম ৫ হাজার টাকা মুচলেকা নিয়ে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তারও আগে গত ১৩ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ গ্রামীণ কমিউনিকেশনন্সের শীর্ষ পর্যায়ের আরো তিন কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। ওই তিন কর্মকর্তা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা, পরিচালক আ. হাই খান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (জিএম) গৌরি শংকর।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. ইউনূসসহ তার প্রতিষ্ঠানের এই চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্রম আইনের ১০টি নিয়ম লঙ্ঘন করার দায়ে মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) তরিকুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, বাদী পক্ষের এক পরিদর্শক গত বছরের ৩০ এপ্রিল গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ভুল ত্রুটি দেখতে পান এবং সেগুলো সংশোধনের নির্দেশনা দেন। এর প্রেক্ষিতে বিবাদী পক্ষ গত ৭ মে ডাকযোগে জবাব দেন।
এরপর গত বছরের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান মামলার বাদী তরিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির শ্রম আইনের ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পান এবং ২৮ অক্টোবর তা অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে বিবাদী পক্ষ সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল করেননি।
এতে বিবাদীরা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩৩ (ঙ) এবং ৩০৭ মোতাবেক দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন বলে বাদী পক্ষ মামলায় অভিযোগ করেছেন।

গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের বিরুদ্ধে যে ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো হলো-
১. বিধি মোতাবেক শ্রমিক/কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বই প্রদান না করা।
২. প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ও অর্ধবার্ষিক রিটার্ন দাখিল না করা।
৩. বিধি মোতাবেক শ্রমিকের কাজের সময় এর নোটিশ পরিদর্শকের নিকট হতে অনুমোদিত নয়।
৪. কর্মীদের বৎসরান্তে অর্জিত ছুটির অর্ধেক নগদায়ন না করা।
৫. ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসব ছুটি প্রদান-সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড/রেজিস্টার সংরক্ষণ না করা।
৬. কোম্পানির নিয়োগবিধি মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
৭. কোম্পানির মুনাফার অংশ ৫% শ্রমিকের অংশগ্রহণ তহবিল গঠনসহ লভ্যাংশ বণ্টন না করা।
১০. কর্মীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করালেও কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্স গ্রহণ না করা।
৯. সেফ্টি কমিটি গঠন না করা।
১০. কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর থেকে লাইসেন্স গ্রহণ না করা।