২১ হাজার আ. লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে -প্রধানমন্ত্রী

34

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসে। তখন রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায় শুরু হয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন। ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। শুধু রাজনৈতিক কারণে বহু চলমান উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত করে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘দেশ যখন আর্থিক স্থবিরতা কাটিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মহাসড়কে অভিযাত্রা শুরু করে, ঠিক তখনই ‘হাওয়া ভবন’ খুলে অবাধে চলতে থাকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট। তারই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ২০০৭ সালের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যে সরকার বিনা কারণে আমাকে প্রায় এক বছর কারাবন্দি করে রাখে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং তাঁদের জীবনমানের উন্নয়নসহ সকলের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি-জামাত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি সুপরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার অর্জনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, শিক্ষার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। তার নতুন মন্ত্রিসভা ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি গঠন করা হয়।
ভাষণে তিনি বলেন, দেশবাসী অতীতে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস এবং মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা দেখেছে। ‘বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আর হতে দেয়া হবে না।’
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা তার প্রায় ৩০ মিনিটের ভাষণে দুর্নীতির সাথে জড়িতদের শোধরানোর আহ্বান জানান। ‘আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।’
প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকার গঠন করার পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণ দেন
শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। ‘আমি আবারো সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই- দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের ছাড় দেয়া হবে না।’
যে-ই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সাথে জড়িত থাকুক তাকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের হক যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।’
তার মতে, দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। মানুষ সচেতন হলে দুর্নীতি আপনা-আপনি কমে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ‘একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সকলে নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করতে সক্ষম হচ্ছেন।’
শেখ হাসিনা জানান, সরকার সংসদকে কার্যকর করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেই সাথে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ সংসদকে প্রাণবন্ত করেছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে একটানা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। ‘আমরা একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার পরিচালনা করছি। আর সে লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ সকলের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশ ও জনগণের জন্য কী করতে চেয়েছিল আর কী করতে পেরেছে তা নিয়ে তারা সব সময়ই সচেতন। ‘আপনারাও নিশ্চয়ই মূল্যায়ন করবেন। তবে আমরা মুখরোচক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নই। আমরা তা-ই বলি, যা আমাদের বাস্তবায়নের সামর্থ রয়েছে।’