মাশরাফি জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত ঘোষণা হওয়ায় নড়াইলবাসির অভিনন্দন

273

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তিত্ব হিসেবে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) যুব শুভেচ্ছদূত হতে যাচ্ছেন ওয়ানডে এবং টি২০ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দীর্ঘদিন ধরে নড়াইল এক্সপ্রেসের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই বাকি।

সন্ধ্যায় বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তিত্ব হিসেবে মাশারিফর এ কৃতিত্ব অর্জন সম্পর্কে মাশরাফি বিন মর্তুজার পিতা মর্তুজা স্বপন তাঁর অনুভুতি সম্পর্কে নড়াইল কণ্ঠের সম্পাদককে জানান, তিনি আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমার ছেলে মোবাইল করে জানায়, বাবা আমাকে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি)যুব শুভেচ্ছদূত করেছে। তিনি বলেন, আমার ছেলে এধরনের সম্মানে ভুষিত হবে আমি কখনও কল্পনাও করতে করিনি। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে চির কৃতজ্ঞ।এ গর্ব আমার বা আমার ছেলের নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষের।

এদিকে এ খবর নড়াইলে ছড়িয়ে পড়লে জাতিসংঘের শুভেচ্ছদূত করার জন্য অভিনন্দ জানিয়েছন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদ্স্য শেখ হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু, জেলা জাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট হেমায়েতুল্লাহ হিরু, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, নড়াইল পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল কণ্ঠের সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান, আব্দুল সিটি কলেজের প্রভাষক মাহাবুবুর রহমান লিটুসহ নড়াইলের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ।

সোমবার (২২ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইউএনডিপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাশরাফির শুভেচ্ছাদূত হওয়ার বিষয়টা নিশ্চিত করে। এখন ভালো একটা দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করার অপেক্ষা। আগামি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের এশিয়া কাপের ম্যাচ নেই। ইউএনডিপি জানিয়েছে এই দিনেই একটি হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে পারে।

মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। টানা সাফল্যে দেশকে বড় দলের কাতারে নিয়েও গেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তার দুর্দান্ত নেতৃত্বে গোটা জাতি গর্বিত। এবার জাতিসংঘ মাশরাফিকে উন্নয়ন প্রকল্পের শুভেচ্ছাদূত করে বাংলাদেশের সম্মান আরও বাড়িয়ে দিল।

বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের খেলোয়াড়ি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও করা হয়েছে অনেক যাচাই-বাছাই। দেখা হয়েছে দেশের সর্বসাধারণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। এই সময়ে মাশরাফির সঙ্গেও কয়েক দফা আলোচনা করেছে জাতিসঙ্গের প্রতিনিধি। পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়েই বাংলাদেশ থেকে মাশরাফিকে সম্মানিত করার প্রস্তাব যায় জাতিসংঘে।

একটা দেশ থেকে একজন ব্যক্তিত্বকেই বাছাই করা হয়। এ বিষয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, ‘জাতিসংঘের ঢাকা অফিস থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাকে জানানো হয়েছে, আমাকে তাদের শুভেচ্ছাদূত করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজপত্র এখনও হাতে পাইনি। তবে তারা বলেছে, এখানে কাজের পরিধি হবে অনেক বড়। তাই আমি মনে করি এটা শুধু আমার নয় পুরো দেশের জন্যই অনেক গর্বের।’