কমরেড হেমন্ত সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

19

নড়াইল কণ্ঠ : ‘কমরেড হেমন্ত সরকারের রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথেই আছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। তার প্রদর্শিত জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে শোষণহীন সমাজব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। সময়ের প্রয়োজনে কৌশল ভিন্ন হতে পারে।’
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) নড়াইলে তে-ভাগা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত ও প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড হেমন্ত সরকারের একবিংশ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর জন্মস্থান নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বড়েন্দার গ্রামে তাঁর সমাধি চত্বরে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি এসব কথা বলেন।
সকাল ১০টায় প্রয়াত কমরেডের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কমরেড হেমন্ত সরকার স্মৃতিরক্ষা কমিটির আয়োজনে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল, প্রয়াত কমরেডের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, স্মরণসভা ও গ্রামীণ মেলা।
এরপর রবীন্দ্রনাথ অধিকারীর সভাপতিত্বে সমাধিস্থলে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড মুস্তফা লুৎফুল্লা এমপি ও নড়াইল জেলা ওর্য়াকার্স পার্টির সভাপতি কমরেড নজরুল ইসলাম।
কমরেড হেমন্ত সরকার স্মৃতিরক্ষা কমিটি, বাংলাদেশের ওর্য়াকার্স পার্টি, বাংলাদেশের ওর্য়াকার্স পার্টি (মার্কসবাদী), জাতীয় গনতান্ত্রিক ফ্রণ্ট ছাড়াও বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে কমরেড হেমন্ত সরকারের মৃত্যুদিন পালন করেছে।
কমরেড হেমন্ত সরকার ১৯১০ সালে নড়াইল সদর উপজেলার বড়েন্দার গ্রামে এক গরীব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। দারিদ্রের কারণে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। প্রথম জীবনে তিনি নড়াইলের প্রতাপশালী জমিদারদের লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করতেন। পরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড অমল সেনের সংস্পর্শে এসে মার্কসবাদের দীক্ষা নেন এবং সব ছেড়ে কমিউনিস্ট আন্দোলনে নিজেকে উৎসর্গ করেন। চলি¬¬¬শের দশকে তিনি তে-ভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অকৃতদার এই নেতা তাঁর ৮৮ বছরের জীবনকালের মধ্যে ষাট বছরই কাটিয়েছেন জেলখানায় ও আত্মগোপন করে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কখনো আদর্শের সাথে আপোষ করেননি। ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।