মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে মাঠে নামলেন মাশরাফীর সহধর্মীনি সুমনা হক

225

নড়াইল কণ্ঠ : গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে সরব ছিলো মাশরাফীর সহধর্মীনি সুমনা হক সুমির এক চৌকস টীম। সঙ্গে ছিলো টিম তারুণ্য-১০০ এর একঝাক তরুণ। তারুণ্যের সাথে গ্রামে গ্রামে নিজের স্বামীর জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়িয়েছিলেন দিনরাত। সেই দিনের কথা অনেকে ভুলে গেলে সুমনা হক ভোলে নাই। ভোটের মাঠে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলন মাশরাফীর নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। চেষ্টা করবেন নারীদের নিয়ে ভালো কিছু করা। গত বছর এ সময় মাশরাফী খেলার মাঠে ছিলো। এবারও বিপিএল- এ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ব্যস্ত থাকায় সুমনা হক সুমি নিজেই মাঠে এসেছেন সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনতে।
মাশরাফি বিন মোর্তজার সহধর্মিণী সুমনা হক সুমি নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এবং মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্রীদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে মাঠে নেমেছেন। গত শনিবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে বড় বোন সাঞ্জিদা হক রিক্তাকে সঙ্গে নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে নড়াইল সদর ও লোহাগড়ার বিভিন্ন এলাকার শীতার্থ দুস্থ অসহায় মানুষের হাতে শীত নিবারনের জন্য তুলে দিচ্ছেন কম্বল, কযেকজন অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা, প্রতিবন্ধী কার্ড প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
সুমনা হক সুমি জানান, আপনারা আমাদের ভালোবেসে ভোট দিয়েছিলেন। আমরা হয়তো ভোটের পর পরই আসতে পারতাম। কিন্তু আপনাদের জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা না করে খালি হাতে আসি কি করে তাই হয়তো আপনাদের কাছে আসতে একটু দেরি হয়েছে। তাছাড়া আমি তো একজন মা, আমার সংসার রয়েছে। সবকিছু গুছিয়ে আপনারদের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা করতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে একটি রূপরেখা তৈরি করে নিয়ে আসতে দেরি হলো। আপনাদের এমপি মাশরাফী চান মহিলাদের উন্নয়নে ভালো কিছু করতে।
সকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত দুটি মহিলা মাদ্রাসা ও একটি শিশুদের হাফেজি মাদ্রাসার ভবন সংস্কারের আর্থিক সহায়তা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ অর্থ তুলে দেন। দুপুরে সিংগিয়া গ্রামে মহিলাদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি মহিলাদের নানা সমস্যার কথা শোনেন। সম্ভাব্য তাৎক্ষনিক কিছু সমাধান দেন। দুইজন অসহায় নারীকে নগদ অর্থ সহায়তা দেন।
এ সময় তিনি এলাকার বৃদ্ধ নারী, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারীদের তালিকা তৈরি করেন এবং তাদের পর্যায়ক্রমে ভাতার জন্য কার্ড করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এমন এক মুহুর্তে স্থানীয় এক নারী বলেন, আমরা কোনোদিন ভাবতে পারিনি আপনি আমাদের কাছে আসবেন! আজ অব্দি নির্বাচনের পরে কোনো এমপি বা তার স্ত্রী কেনো দিন আসেনি। আপনি এসেছেন, এটা যে কি আনন্দের তা মুখে বলতে পারবো না।