‘মধুমতি নদী তীরের স্থায়ী সুরক্ষার কাজ এবার হতেই হবে’-মাশরাফী

16

নড়াইল কণ্ঠ : মধুমতিনদী ভাঙ্গনকবিলত মানুষের দু:খ-দূর্দশা লাঘবে আবারও সরেজমিনে নড়াইলের লোহাগড়ার কালনা, ঘাঘা পয়েন্টে নদীতীরে অস্থায়ী ও স্থায়ীর ক্ষাবাঁধনির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং যথাসময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে এলাকার মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলেররঅধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনেরসংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
গত সোমবার (০২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শত ব্যবস্তার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা মধুমতি নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ছুটে যান ছুটে যান লোহাগড়ার ভাঙ্গন কবলিত গ্রাম তেতুলিয়া। এবছরের বর্ষায় দেড় শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীণ হয়ে গেছে।
মাশরাফী নদী ভাঙ্গন এলাকায় পৌছানোর পর ভাঙ্গন কবলিত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকাবাসী ছুটে চলে আসেন। কেউ আসেন তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাতে। আবার কেউ আসেন প্রিয় তারকে এক নজর দেখতে।
পরিদর্শনকালে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ট্রলারযোগে বেশ কিছু এলাকার ভাঙ্গন পরিস্থিতি দেখেন। পরে ট্রলার থেকে নেমে তিনি শতাধিক ভাঙ্গন কবলিত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থদেরর দু:খ দুর্দশার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।
এসময় এমপি মাশরাফী ক্ষতিগ্রস্থদের আশ্বাস দেন যে, আগামী বছর যাতে নদীভাঙ্গনে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে জন্য অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলা হবে। এছাড়া আড়াই কিলোমিটার জুড়ে যাতে স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষার কাজ করা যায় সে জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেতে অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বেশ সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।
এছাড়া ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে তাদের কোন ধরনের সহযোগিতা করা যায় কিনা সে ব্যাপারেও উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
পরিদর্শনকালে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুল কুমার মৈত্র, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মশিউর রহমান, লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিকদার নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৌমেন চন্দ্র বসু, লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান রাশেদসহ ক্ষতিগ্রস্থরা উপস্থিত ছিলেন।
মাশরাফী এরপর কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা এলাকায় নদী ভাঙ্গন ও প্রতীক্ষার জন্য স্থায়ী বাঁধনির্মাণ কাজ পরিদর্শন করতে যান। সেখানে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ঘাঘা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ে কিছুটা সময় কাটান। এই এলাকায় ৪১০ মিটার নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং কাজের মান যাতে সঠিক থাকে সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয়দের কাজ বুঝে নিতে অনুরোধ জানান। এ সময় সম্প্রতি মধুমতি নদী তীরে স্থায়ী বাঁধনির্মাণের দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, দুদক দুদকের কাজ করবে, তারা আমার বিরুদ্ধেও কোন অনিয়ম পেলে আমার বিরেুদ্ধে রিপোর্ট করবে। তবে এবার কাজ হতে হবে। আপনাদেও সোচ্চার থাকতে হবে। সকলের সহযোগিতা ছাড়া হবে না।
এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা. আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।