হলি আর্টিজান হামলার আজ রায়, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার

15

নড়াইল কণ্ঠ : গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলা মামলার আজ রায় হতে যাচ্ছে। ১৭ নভেম্বর, রবিবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. গোলাম ছারোয়ার খান (জাকির) বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়ের দিকে শুধু দেশবাসীই নয়, সারা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। তাই সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আসামিদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক এলাকায় হামলা করে বিদেশিদের হত্যা করা।’
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে যেসব সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়নি। প্রতিটি সাক্ষীর বৈসাদৃশ্য রয়েছে। যা আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। এমতাবস্থায় আদালতের কাছে আমরা ন্যায়বিচারপ্রত্যাশা করছি।’
এদিকে হোলি আর্টিজান মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। আগামী কয়েক দিন র‍্যাব সতর্ক অবস্থায় থাকবে বলে জানান তিনি। ২৭ নভেম্বর, মঙ্গলবার কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
এ সময় র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ পরাস্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশে-বিদেশে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থেকেই যাবে। তবে বাংলাদেশে কখনোই পরিপূর্ণ জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। তারপরও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্রমাগতভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করে যেতে হবে।’
বেনজীর আহমেদ আরো বলেন, ‘হোলি আর্টিজানে হামলার পর অনেক বড় দেশ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। তারা বাংলাদেশ দেশ থেকে বিনিয়োগ ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল। তখন বাংলাদেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। যখনই জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে, তখনই তাদের নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালান। অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করেন জঙ্গিরা। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা রবিউল করিম ও সালাউদ্দিন খান নিহত হন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৩১ সদস্য ও র‌্যাব-১ এর তৎকালীন পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদসহ ৪১ জন আহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হন। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন রেস্তোরাঁকর্মী। অভিযানের আগে ও পরে ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়।
এ হামলার ঘটনায় অভিযোগ গঠনের পর থেকে মোট ৫২ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ সব কার্যক্রম শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছে। জঙ্গি হামলার তিন বছর চার মাস ২৬ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।