নির্যাতনের শিকার সেই গৃহকর্মী হোসনাকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে দেশে

20

ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি জানানো নির্যাতনের শিকার সেই গৃহকর্মী হোসনা আক্তারকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী হোসনা আক্তারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং দেশটির জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যেগে নাজরান পুলিশ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে তাকে পুলিশের নজরদারিতে একটি সেইফহোমে রাখা হয়েছে। তাকে দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে ফলোআপ অব্যাহত রেখেছে জেদ্দা কনস্যুলেট।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি রিক্রুটিং অফিস ‘রুয়াদ নাজরানের’ মাধ্যমে গৃহকর্মীর (লাইসেন্স নং- ৩৯১৮৬১৮) কাজ নিয়ে সৌদি আরব যান হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জের হোসনা আক্তার। সৌদিতে তার কর্মস্থল ছিল জেদ্দা থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের নাজরান শহরে।
হোসনার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিন বিশেক আগে দালাল শাহীন মিয়া ও প্রস্তাবিত রিক্রুটিং এজেন্সি আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশনের প্রলোভনে পড়ে এজেন্সি আল-সারা ওভারসীস (আরএল-৭৫২) এর মাধ্যমে সৌদি যায় হবিগঞ্জের মেয়ে হোসনা। তবে গত ৬ নভেম্বর সৌদি যাওয়ার পর থেকে সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হোসনা ভিডিও বার্তায় তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানান স্বামী শফিউল্লাহর কাছে। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে শফিউল্লাহ ছুটে যান দালাল ও আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশন অফিসে, তারা হোসনা‌কে দেশে আনতে দুই লাখ টাকা দাবি করেন পরিবারের কাছে।
ভিডিও বার্তায় হোসনা আক্তার বলেন, ভালো কাজের কথা বলে দালাল তাকে সৌদি আরব পাঠিয়েছে। কিন্তু সে দেশে গিয়ে দেখেন কর্মস্থলের কেউ তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। বরং নির্যাতন চালায়। তিনি দেশে ফিরতে চান এমটা শুনে তারা অত্যাচার আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সিতে ফোন দিলে তারাও হোসনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।
বাঁচার আকুতি জানিয়ে হোসনা তার পরিবারকে জানায়, সেখানকার কেউ তাকে দেশে পাঠাতে চায় না। এনকি ফোনও চালু করতে দেয় না। তিনি দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা যেনো তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে এবং বাঁচায়।
এর আগে সৌদি আরব থেকে ভিডিও বার্তায় জীবন বাঁচানোর আকুতি জানানোর পর গত ১৫ নভেম্বর দেশে ফিরে আসেন আরেক প্রবাসী পঞ্চগড় জেলার সুমি আক্তার।