যশোর জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে সনাক’র মতবিনিময়

31

নড়াইল কণ্ঠ : ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক ডা: আবুল কালাম আজাদ। বক্তব্য দেন সনাক সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস, হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল, আরএমও ডা. আরিফ আহমেদ, মেট্রন নার্স মোসা: ফেরদৌসি বেগম, মেডিকেল কলেজের মো: গোলাম মোস্তফা, জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা রতন কুমার সরকার, স্টুয়ার্ড মো: শাহজাহান, জমাদ্দার ইমরান হাসান প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এএইচএম আনিসুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. হিমাদ্রি শেখর সরকার, কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট ডা: মো: তৌহিদুল ইসলাম, ডা. আব্দুস সামাদ, ডা. নীলুফার ইসলাম প্রমুখ।
সভায় সনাক’র ইয়েস গ্রুপ কর্তৃক হাসপাতালে পরিচালিত স্যাটেলাইট এআই-ডেস্ক এর পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এএইচএম আনিসুজ্জামান। পর্যবেক্ষণগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জরুরি বিভাগে ক্ষতস্থান সেলাই বা পরিস্কারের জন্য টাকা দাবি করা, সেবাগ্রহিতাদের সাথে খারাপ ব্যবহার, বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানোর জন্য রোগী বা রোগীর স্বজনদের উৎসাহিত করা, ওয়ার্ডগুলিতে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রব, বাথরুমসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিদ্যুতের সুইচ নষ্ট, বহির্বিভাগে অসময়ে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়, চিকিৎসক রোগীদের সমস্যা ঠিকমত না শুনেই প্রেসক্রিপশন দেন, হুইল চেয়ার-ট্রলি-স্ট্রেচার ব্যবহারের জন্য টাকা দাবি করা, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের খারাপ ব্যবহার ইত্যাদি। পাশাপাশি হাসপাতালের অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ও পর্যবেক্ষণে তুলে ধরা হয়।
সমস্যা সমাধানে যেসকল সুপারিশমালা তুলে ধরা হয় সেগুলি হলো- জরুরী বিভাগের সেবা প্রদানে যাতে কেউ কোন প্রকার অবৈধ টাকা দাবি না করে সেটা নিশ্চিত করা; জরুরী বিভাগে যারা সেবা প্রদান করেন তারা যেন বাজে ব্যবহার না করেন সেটি নিশ্চিত করা; চিকিৎসকের সহকারীরা ‘হাসপতালের টেস্টের রিপোটΠ ভাল হয় না’- এ ধরণের প্রপাগান্ডা যেন না ছড়ায় সেটি বন্ধ করা; হাসপাতালের আন্ত:বিভাগে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রব বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা নিধΠারিত দিনের বাইরে যেন হাসপাতালে প্রবেশ করতে না পারেন সেটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা; নাসΠ বা কোন কমΠকতΠা-কমΠচারী রোগী বা রোগীর স্বজনদের সাথে যেন খারাপ ব্যবহার না করেন সেটি নিশ্চিত করা; হাসপাতালে যেসকল টেস্ট করা হয় সেগুলির রিপোটΠ পরের দিন বেলা ১২টার আগে প্রদান করা; খাবার বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যাতে রোগী বা রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ ব্যবহার না করেন সেটি নিশ্চিত করা; হুইল চেয়ার ও ট্রলি/স্ট্রেচার ব্যবহারের জন্য কেউ যাতে টাকা দাবি না করেন সেটি নিশ্চিত করা ও ওয়াডΠবয় ও আয়ারা যাতে কোন অজুহাতে বকশিস দাবি না করেন সেটি নিশ্চিত করা।
উল্লিখিত পর্যবেক্ষণ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, মতবিনিময় সভায় মূলত হাসাপাতালের যে অসুবিধাগুলো আছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এটি আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়। এ সভার মাধ্যমে আমরা আমাদের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। যা হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বহির্বিভাগে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে আমরা এই প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি, কিন্তু তাতেও খুব বেশি সুফল আসেনি। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা সচেতন না হলে এ দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে না। তারা যদি হাসপাতাল কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কোম্পানির প্রতিনিধিদের রিসিভ না করেন তাহলেই এদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের টেস্টের মান ভাল। এটা নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে। কারণ এতে অনেকের কমিশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও রোগীদের উন্নত সেবা প্রদানে অতি শীঘ্র এ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন সংযোজন করা হবে। নতুন একটি প্রজেক্টের আওতায় রোগীদের হয়রানি লাঘবে হাসপাতাল অভ্যন্তরে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানও করা হবে।
পর্যবেক্ষণ রিপোর্টের বিপরীতে সনাক বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরে। কর্তৃপক্ষ সনাক’র সুপারিশমালা বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নেবেন বলে সকলকে আশ^স্ত করেন।