একটি গোষ্ঠী চাল নেই, লবণ নেই বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে -প্রধানমন্ত্রী

26

দেশবাসীকে গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের মানুষ ভালো আছে। তারপরও একটি গোষ্ঠী চাল নেই, লবণ নেই বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

তারা (অপপ্রচারকারীরা) মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যাই হোক, এসব মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে।’
বৃহস্পতিবার ( ২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে স্বাধীনতা যুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় ২০১৯-২০ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে, সে লক্ষ্যে আমরা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করছি। যাদের ঘর নেই, তাদের ঘর দিচ্ছি। যাদের জমি নেই, তাদের জমি দিচ্ছি।’

গুচ্ছগ্রাম, আদর্শ গ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেককে পুনর্বাসন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গরিবের সন্তানরা যেন লেখাপড়া করতে পারে, সেজন্য বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি। বিনা পয়সায় ছেলে-মেয়েদের বই দেয়া হচ্ছে। আজকের শিক্ষার্থীরা যাতে লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে পারে, তারা যেন এ দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারে, সেজন্যই আমরা এ কাজগুলো করছি।’

সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের সন্তান, নাতি-পুতিদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা যেন মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারে। দেশকে ভালোবাসতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, “যুদ্ধ করে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। বাঙালি বীরের জাতি, এ কথা যেন নতুন প্রজন্মের সন্তানরা জানতে পারে। ভবিষৎ প্রজন্ম বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। কারণ, আমরা বীরের জাতি। বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষণে বলেন, ‘বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো, ইনশাল্লাহ।”

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশের যেখানে গণকবর আছে সেগুলো চিহ্নিত করতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তিন বাহিনী প্রধানসহ সামরিক ও বেসারিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।