প্রতিবেশিকে ফাঁসাতে গিয়ে ভুয়া আইনজীবী নিজেই ফেঁসে গেলেন!

9

দেখতে সুদর্শন। চলাফেরা ধরণ দেখে কারও সন্দেহের অবকাশ নেই তিনি ভদ্রলোক না প্রতারক! আর এসবকে পুঁজি করে আইনজীবী সেজে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তার সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন সালাউদ্দিন চৌধুরী নামে এক ভুয়া আইনজীবী। অভিযোগ ওঠে, নিজের বাড়ির দেয়ালে মিথ্যা পরিচয়ে তিনটি সাইনবোর্ড টানিয়ে, ভিজিটিং কার্ড, সিল বানিয়ে এতো বছর সুপ্রিমকোর্ট জজকোটের আইনজীবী সেজে ধান্ধাবাজি চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
পারিবারিক বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী ফয়েজ আহম্মদ নামে একজন নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন সালাউদ্দিন। বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফি উদ্দিনের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদী ফয়েজ আহম্মদ জানান, সালাউদ্দিন তার প্রতিবেশী। তার জানা মতে সালাউদ্দিন স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেননি। তার আইন পেশা পড়ার কোন সুযোগ নেই। অথচ বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি আইনজীবী সেজে প্রতারণা করে আসছিলেন।

এলাকার লোকজন তার এসব কর্মকাণ্ড জেনেও হয়রানির ভয়ে মুখ খুলতে এবং প্রতিবাদ করতে সাহস পেত না বলেও জানান তিনি।
বুধবার একটি মামলায় জামিন নিতে গেলে আদালতে তিনি নিজেকে হাইকোর্ট এবং জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী পরিচয় দিলে আদালতের সকল আইনজীবী এবং আইনজীবী সমিতির নেতারা তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

আইনজীবীরা আদালতকে জানান, সালাউদ্দিন প্রকৃত আইনজীবী না। তিনি নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এর স্বপক্ষে আইনজীবীরা আদালতে প্রমাণ পত্রও দাখিল করেন।

এসময় বিচারক মোহাম্মদ শফি উদ্দিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন- ‘আপনিতো আমার আদালতেও কিছুদিন আগে মামলা পরিচালনা করেছিলেন।’

আদালত সালাউদ্দিনকে দিনভর কাটগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং তিনি যে আইনজীবী তার পক্ষে কাগজপত্র দাখিল করতে বললেও তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন পুলিশকে।

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব খান জানান, ‘সালাউদ্দিন পিতা শাহ আলম নামে কোন আইনজীবী সমিতির সদস্য না। এই সালাউদ্দিন একজন ভুয়া আইনজীবী। তিনি মানুষের সাথে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছেন।’ ইউএনবি।